কক্সবাজারের বিস্তৃত সৈকতে দাঁড়িয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘জলবায়ু শপথ’ নিলেন কয়েক শ পরিবেশযোদ্ধা। জলবায়ু বিপর্যয়ের হাত থেকে ধরিত্রীকে বাঁচানোর প্রত্যয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দরিয়ানগর পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের উদ্যোগ ক্লাইমেট অ্যাকশন চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্কের (সিএসিএন) সাউথ ক্লাইমেট কনক্লেভ: বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে জেনল্যাভের আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন’ ভিত্তিক তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের বহুমাত্রিক কার্যক্রমের সমাপ্তি হলো এই ‘জলবায়ু শপথ’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে।
দেশের বরণ্য শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও জলবায়ুকর্মী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ কর্তৃক চারটি বাক্য ও ১১৩টি শব্দে এই অঙ্গীকারনামা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘জলবায়ু শপথ’।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের দরিয়ানগর পয়েন্টে অনুষ্ঠিত জলবায়ু শপথ অনুষ্ঠানে জলবায়ুকর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়, জেলে, কর্মজীবী নারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শ মানুষ অংশ নেয়।
জলবায়ুকর্মী ও ফোর্বস খ্যাতিমান কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের এই জলবায়ু শপথ পাঠ করান।
এরই পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি ও জ্বালানি ব্যবহার করে, খাদ্যের অপচয় ও প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধ করে পৃথিবীকে দারিদ্র্য ও দূষণমুক্ত করার প্রয়াস পাবে।
জলবায়ু শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মার্কিন দূতাবাসের কালচারাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার শারলিন হুসেন মরগান, রিভারাইন পিপলস প্রতিষ্ঠাতা শেখ রোকন, ফোর্বস-৩০ আন্ডার-৩০ স্বীকৃতিখ্যাত কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু, হার্ভার্ড অর্থনীতিবিদ আমরিন বশির, আইপিডিসির প্রধান নির্বাহী মমিনুল ইসলাম, আবিষ্কার ফ্রন্টিয়ার ফান্ডের কান্ট্রি হেড নাজমুল করিম, স্থানীয় সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মানস মন্ডল, পার্টনারশিপ ফর টলারেন্টব অ্যান্ড ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ কর্মকর্তা ফায়সাল বিন মজিদ, ক্রিয়েটিভ অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার সিজার রহমান, সিবিএম আয়ারল্যান্ড থেকে মাহবুব কবির এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ নাজিমসহ বিশিষ্টজনরা।
এর আগে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন’ ভিত্তিক তিন দিনের সম্মেলনের শনিবার (১১ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীরা সাইট ভিজিট হিসেবে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের রাস্তারপাড়া জেলেপল্লি পরিদর্শন করেন।
রবিবার সম্মেলনের সমাপনী দিনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ‘নলেজ স্পেল অধিবেশন’। এতে জলবায়ুকর্মী ও বক্তারা, জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধ, জলবায়ু অভিবাসন, জলবায়ু ও জেন্ডারসহ বিভিন্ন ইস্যুর সমাধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
পাশাপাশি তারা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করেন।









