ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচন

ভোটের আগের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফের সন্ধান চেয়ে স্ত্রীর আবেদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:৩৩আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদের সন্ধান চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্ত্রী। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এ আবেদন পাঠান আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নেচ্ছা।

এর আগে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নেচ্ছা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন স্বামী। গত তিন দিন ধরে স্বামী কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, তা জানি না। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি।’ এই বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার চার দিন পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্বামীর সন্ধান চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো আবেদনপত্রে মেহেরুন্নেচ্ছা উল্লেখ করেছেন, ‘আমার স্বামী আবু আসিফ আহমেদ উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মোটরগাড়ি প্রতীকে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে গত শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে এখন পর্যন্ত ফেরেননি। নিখোঁজের দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। বাসায় ফিরলে লোকজন জানান, শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বেরিয়ে আর ফেরেননি। চার দিন ধরে তিনি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, তা জানি না।’

আবেদনপত্রে মেহেরুন্নেচ্ছা আরও লিখেছেন, ‘গত ২৫ জানুয়ারি আমার স্বামীর নির্বাচনি প্রচারণার প্রধান আবু মুসা মিয়াকে তুুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। আবু মুসা ৮০ বছরের বৃদ্ধ মানুষ এবং এলাকার স্বনামধন্য সালিশদার। পরে জানতে পারি গ্রাম্য ঝগড়ার মীমাংসিত একটি ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। অথচ ওই ঘটনায় কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন আবু মুসা। একই দিন থেকে নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী আমার ছোট ভাই শাফায়াত সুমন ভয়ভীতির কারণে এলাকায় ঢুকতে পারছে না। এরই মধ্যে আমার বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী লোকজন তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করেছেন। প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে পুলিশ সদস্যরা আসা-যাওয়া করছেন। বাসায় কোনও লোকজন যাতে আসতে না পারে, সেজন্য কয়েকজন লোক বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন সব সময়। বাসায় গৃহকর্মী এলেও ছবি-ভিডিও তুলে রাখেন ওসব লোক।’

উপনির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তোলে মেহেরুন্নেচ্ছা আবেদনপত্রে লিখেছেন, ‘প্রচারণার ক্ষেত্রে আমরা কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাইনি। ভোটকেন্দ্রে যাদের এজেন্ট দেবো, তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একজন প্রার্থীকে যেভাবেই হোক জিতিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করি না। আমার বিশ্বাস, এত কিছুর পরও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে আবু আসিফ বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’

আবেদনপত্রে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া পূর্ব, কুট্টাপাড়া পশ্চিম, সৈয়দটুলা, পরের পাড়, আবিথটুলা, সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও উচালিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভোটারদের আঙুলের চাপ নেওয়ার পর বিশেষ প্রার্থীকে জেতানোর জন্য অন্যরা প্রতীকের বাটন চেপে দেবে বলে একটি মহল এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভয়ে এতদিন লিখিত অভিযোগ করতে পারিনি। কিছু সংবাদকর্মী খোঁজ নিতে আমার বাসায় এলে তাদের বিষয়গুলো জানাই। সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকে স্বামীকে খুঁজে বের করাসহ তদন্তের নির্দেশ এসেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে আজ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত স্বামীর খোঁজ পাইনি। স্বামীর সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার মর্জি কামনা করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ্গীর আলম বলেন, ‘দুপুরে এক বাহকের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফের স্ত্রী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি আমরা। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।’

১ ফেব্রুয়ারি এই আসনে উপনির্বাচন হবে। ১৭টি ইউনিয়নের ১৩২ কেন্দ্রে তিন লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ ভোটার ইভিএমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে অংশ নিতে ১৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ৮ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের পর পাঁচ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বৈধ ঘোষিত আট প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এরই মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির দুবারের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। তারা সরে দাঁড়ানোর ফলে জয়ের পথ সহজ হয়ে যায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার। 

বর্তমানে সাত্তার ভূঁইয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ।

/এএম/
সম্পর্কিত
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন১১ হাজারের মধ্যে ভোট দিলেন ৪০৪৮ আইনজীবী
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চলছে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভোটগ্রহণ
সংরক্ষিত নারী আসন, পরিবারতন্ত্র নাকি ত্যাগীদের মূল্যায়ন?
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম