সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়েছে পর্যটকবাহী ৯টি জাহাজ। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই জাহাজগুলো টেকনাফের দমদমিয়া ঘাটে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এ সময় জাহাজ থেকে নেমে অনেক পর্যটক কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে বমি করেছেন, কেউ কেউ অসুস্থ হন।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো। জাহাজগুলোতে হাজারের বেশি পর্যটক ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো হেলেদুলে নৌপথ পাড়ি দেওয়ার একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ এসটি সুকান্ত বাবু সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে টেকনাফের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে। দুলতে দুলতে ধীরে ধীরে চলছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পারিজাত নামের একটি জাহাজ দুলতে দুলতে চলছে।
এই দুই জাহাজের একাধিক পর্যটক জানান, সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে সবগুলো জাহাজই কমবেশি দুলে। এ সময় জাহাজের যাত্রীরা আতঙ্কে ছিলেন। দুর্ঘটনার শঙ্কায় ছিলেন অনেকে।
সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাজের কয়েকজন পর্যটক জানিয়েছেন, সকালে সেন্টমার্টিন রওনা দেওয়ার সময় বাতাস না থাকায় নাফনদ ও বঙ্গোপসাগর শান্ত ছিল। কিন্তু বিকালে জাহাজগুলো সেন্টমার্টিন ছেড়ে কিছুদূর আসতেই ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের বঙ্গোপসাগর অংশে উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন ঢেউয়ের ধাক্কায় জাহাজগুলো এদিক-সেদিক দুলতে থাকে। দীর্ঘ পথ ঝুঁকি নিয়ে এভাবে অতিক্রমের পর নাফনদে ঢুকে জাহাজগুলো। তখন পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি আসে। সেইসঙ্গে শঙ্কামুক্ত হন পর্যটকরা।
সেন্টমার্টিন থেকে ফেরা জাহাজের যাত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ব্যক্তিগত কাজ থাকায় এবং ঘুরতে সোমবার সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম। মঙ্গলবার বিকালে সেন্টমার্টিন ছেড়ে টেকনাফে রওনা দিই। কিছুদূর আসার পর সাগরে বাতাসের কবলে পড়ে আমাদের জাহাজ। পাশাপাশি সবগুলো জাহাজ ঢেউয়ের ধাক্কায় কমবেশি দুলতে ছিল। আমরা ভয় পেয়েছিলাম। তবে জাহাজগুলো নাফনদে ঢুকলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। সন্ধ্যায় আমরা নির্ধারিত সময়ে টেকনাফের জাহাজ ঘাটে পৌঁছাই।
ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে আসা মাহবুব আলম বলেন, সকালে যাওয়ার সময় তেমন বাতাস না থাকায় আমরা নিরাপদে সেন্টমার্টিন পৌঁছাই। তবে বিকালে ফেরার পথে বাতাসের কারণে আমাদের জাহাজসহ অন্য জাহাজগুলো ঝোড়ো বাতাসের মুখে পড়ে। ঢেউয়ের তালে দুলতে দুলতে পথ চলতে থাকে। ভাগ্য সহায় ছিল, সবকটি জাহাজ বিপদ কাটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, 'হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাস শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী জাহজগুলো দুলতে ছিল। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদিনের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করতে বুধবার থেকে আমাদের একটি টিম মাঠে থাকবে।'
টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় সকালে ঝোড়ো বাতাসের কোনও পূর্বাভাস ছিল না। এজন্য জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিন গিয়েছিল। কিন্তু আসার পথে হঠাৎ বাতাস শুরু হওয়ায় সাগরের বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে জাহাজগুলো। একপ্রকার হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়েছেন পর্যটকরা। এসব ক্ষেত্রে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আজ সকালে হালকা বাতাস অথবা দিনের কোনও সময়ে বাতাসের পূর্বাভাস থাকলে জাহাজগুলো আমরা ছাড়তাম না।
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফের ব্যাবস্থাপক শাহ আলম বলেন, বাতাসে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হলে সবকটি নৌযান কমবেশি দুলতে থাকে, এটি স্বাভাবিক। তবে বড় ঢেউয়ে কোনও কোনও নৌযান কম দুলে আবার কোনোটি বেশি দুলতে থাকে। তবে বাতাসের কবলে পড়েও আমাদের দুটি জাহাজ কম ঝুঁকিতে ছিল। কোনও ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন।








