চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় হাত-পা বেঁধে মো. সালাউদ্দিন শেখ (৪৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম আবদুর রহমান (৩২)। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার হরিষপুর ইউনিয়নের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার বিকালে ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গত ২৭ জানুয়ারি সকালে খুলশী থানাধীন টিন শেডের তালাবদ্ধ বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে খুলশী থানা পুলিশ। পরে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই এ মামলার তদন্ত শুরু করে। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত হন। পিবিআই জানতে পারে, নিহত ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন শেখ। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার তারাবো পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আবদুর রহমান পিবিআইকে বলেন, নিহত সালাউদ্দিন শেখ ও স্বপন এবং আমিসহ খুলশী থানাধীন টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনির পরিত্যক্ত ১১ নম্বর বিল্ডিংয়ের সামনে টিন শেডের বাসায় ভাড়া থাকতাম। আমরা মেলায় স্থাপনা তৈরিতে কাজ করতাম। সালাউদ্দিনের সঙ্গে আমাদের নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। বাসায় গোসলসহ ব্যবহারের পানি কিনতে হতো। গোসল করার সময় সালাউদ্দিন পানি বেশি ব্যবহার করতো তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রায় ঝগড়া হতো। সালাউদ্দিনের কাছে স্বপন সাত হাজার টাকা পাওনা ছিল। তবে সালাউদ্দিন বলেছে, সাড়ে তিন হাজার টাকা পাবে। এর মধ্যে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকা পরে পরিশোধ করার কথা জানায়। তা মানতে রাজি হননি স্বপন। এ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সে পিবিআইকে আরও বলেন, সালাউদ্দিনকে শায়েস্তা করতেই ছুরি কিনে আনে স্বপন। বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে পরিকল্পনা করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিন ঘুমিয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে স্বপন প্রথমে ঘুমন্ত সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। আমি দুই হাত-পা চেপে ধরি। এরপর স্বপনের হাত থেকে ছুরি আমিও গলায় আঘাত করি। এক পর্যায়ে সালাউদ্দিনের দেহ নিস্তেজ হয়ে আসে। তখন সালাউদ্দিনের দুই পা ওড়না দিয়ে বাঁধে স্বপন। আমি গামছা দিয়ে দুই হাত বাঁধি। আরেকটি গামছা ও কম্বল দিয়ে সালাউদ্দিনের মুখ ঢেকে দেই। হত্যার পর তার মানিব্যাগে থাকা ৩৫০ টাকা দুজন ভাগ করে নিয়েছি। পরে দুজন রুমের দরজা বন্ধ করে রিকশা নিয়ে অলংকার যাই। অলংকার থেকে বাসে করে ফেনী। পরে ফেনী থেকে সিলেট যাই। স্বপন সিলেটে থেকে যায়। আমি ধানমন্ডিতে স্ত্রীর কাছে চলে যাই।
পিবিআই পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডটি ছিল একেবারেই ক্লুলেস। যা প্রযুক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।








