পাহাড়ি গ্রামগুলো সেজেছে নতুন রূপে। সবখানে উৎসবের আমেজ। করোনা মহামারির কারণে গত তিন বছর পাহাড়ে বড় পরিসরে বৈসাবি উৎসব হয়নি। তবে এবার নাচেগানে শোভাযাত্রা নিয়ে বৈসাবি উৎসবে মেতেছেন পাহাড়িরা।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু মেলা। পাঁচ দিনব্যাপী এবারের মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নৃত্য, খেলার আয়োজন করা হয়। মেলা হয় রাঙামাটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে। বিভিন্ন স্টলে পসরা বসে ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি পণ্যের। মেলা চলবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত।
উৎসব উপলক্ষে সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ও সাংক্রান উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। আনন্দ-উল্লাসে বৈসাবির বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। উৎসবে নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হন অনেকে।
এর আগে সকালে পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, সাংক্রান, বিষু, বিহু উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা।
রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ও সাংক্রান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন
শিক্ষাবিদ অঞ্জুলিকা খীসা, লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি শিশির চাকমা, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুসুম চাকমা, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার প্রমুখ।
চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পরও স্বাভাবিকভাবে উৎসব পালন করতে না পারার অভিযোগ জানিয়ে সন্তু লারমা বলেন, ‘চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন হলে মানুষ ফিরে পাবে নতুন উদ্যম, পাহাড়ের মানুষ উজ্জীবিত হবে, নতুন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ বাঁচতে পারবে, উৎসবে যোগ দিতে পারবে। চুক্তি বাস্তবায়নে শাসকগোষ্ঠীর ছলোনা খুঁজে পাই।’
পরে পৌরসভা প্রাঙ্গণে পাহাড়িদের ঐহিত্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।








