ডায়ালাইসিস ফি কমানোর আন্দোলন থেকে গ্রেফতারের পর মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মোস্তাকিমকে পাঁচলাইশ থানায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে মারধরের সত্যতা পায়নি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও এসআই আবদুল আজিজকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিআইডির (মেট্রো) ও জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ। সোমবার (১৫ মে) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শাহনেওয়াজ।
পাঁচলাইশ থানার ওসি এবং এসআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে শাহনেওয়াজ বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছি, মামলায় তথ্যগত ভুল আছে। এ জন্য ওসি ও এসআইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দিয়েছি।’
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘শুনেছি পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অথচ তদন্তের ফল বাদীকে জানানোর নিয়ম থাকলেও জানানো হয়নি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে পিপির মতামতও নেওয়া হয়নি। এ মামলায় আলামত জব্দ করা হয়নি। নির্যাতনের শিকার মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়নি পুলিশ। অথচ ঠিকই ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবেদন দিয়েছে। বাদীর সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া ও নির্যাতনের সত্যতা না পাওয়ার বিষয়ে বাদী মোস্তাকিম বলেন, ‘আমাকে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছিল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলাম, সেই রিপোর্টেও নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন চিকিৎসক। অথচ তদন্তে সিআইডি নির্যাতনের সত্যতা না পাওয়া হাস্যকর। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দাখিল করবো।’
মোস্তাকিম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার জালালাবাদ অক্সিজেন এলাকার মৃত খালেদ আজমের ছেলে। চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল শেষ বর্ষে পড়ার পাশাপাশি সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন কলেজে ইসলামের ইতিহাসে অনার্সে পড়ছেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফি কমানোর আন্দোলন করা হয়। সেখান থেকে মোস্তাকিমকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে পাঁচলাইশ থানায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছার আদালতে ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডির চট্টগ্রাম (মেট্রো) ও জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ মামলাটি তদন্ত করেন। মামলার পর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওসি নাজিম উদ্দিন কর্মস্থলে আসেননি। এ ছাড়া এসআই আবদুল আজিজ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন।
অপরদিকে, ডায়ালাইসিস ফি আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মোস্তাকিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১১ জানুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মোস্তাকিম। ১৬ জানুয়ারি পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বর্ণনা দেন। ২০ জানুয়ারি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন।









