এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে টানা এক সপ্তাহের ছুটি। পর্যটক বরণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল খাগড়াছড়ির প্রায় শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ।কিন্তু চলতি ঈদে টানা বন্ধ থাকলেও পর্যটকদের খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। বুকিংও কম হয়েছে। এতে হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল অরণ্য বিলাসের ম্যানেজার রাজীব দে জানান, রোজার ঈদের পর থেকে পর্যটক নেই। বুকিংও নেই। ১৫/২০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরেও পর্যটকদের সাড়া নেই। চলতি ঈদেও পর্যটকের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটনের টিকেট কাউন্টারের ইনচার্জ কোকোনাথ ত্রিপুরা বলেন, ‘পর্যটক বেশি হলে ৭০/৮০ হাজার টাকার টিকিট থেকে লাখ টাকাও দিনে আয় হয়। তবে গত তিন মাসেও এই ধরনের আয় হয়নি। এখন বৃষ্টির সময়-পর্যটক বেশি হবে না বলে আমার ধারণা।’
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস ভালো পর্যটক পাইনি। চলতি ঈদে বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকলেও বাইরের পর্যটক নেই বললেই চলে। যারা আসছেন তারা খাগড়াছড়ির লোকাল পর্যটক। লোকসানের কারণে স্টাফদের বেতন দিতেও কষ্ট হয়।’
খাগড়াছড়ি জেলা হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জেলার নয় উপজেলায় ছোট-বড় সব মিলিয়ে শতাধিক শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এসব হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোর। গড়ে ৭০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া নেওয়া হয়। ঈদুল ফিতরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভালো পর্যটক পায়নি। তাই ঈদুল আজহায় পর্যটকদের জন্য ১৫/৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেন হোটেল মালিকরা। কিন্তু চলতি ঈদে বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকলেও পর্যটকদের সাড়া নেই। গড়ে প্রত্যেকটি হোটেলে ৫/৬টি করে কক্ষ ভাড়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক সহিদুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন-পুলিশ প্রশাসনসহ সব নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত আছে। এছাড়া খাগড়াছড়ির প্রত্যেকটি স্পটে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে।









