ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৪ জনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
২৬ জুলাই ২০২৩, ১৭:২৬আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১৯:২৬

লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ছাত্রলীগ কর্মী মামুনুর রশীদ হত্যা মামলায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৪ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহিন এ রায় দেন। রায়ে মো. সোহেল ও গোলাম রাব্বী নামে দুই জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাব মিয়ার ছেলে মো. মধু (৩৫) ও তার ভাই মো. শামীম (৪০), একই উপজেলার বারিয়াধর গ্রামের মো. বারেক মাস্টারের ছেলে মো. মামুন (৩৭), পূর্ব দেলিয়াই গ্রামের মৃত শাহজাহান চৌকিদারের ছেলে মো. বাবু ওরফে গলাকাটা বাবু এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের বশির উল্যার ছেলে মো. কাউছার (২৭)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জাহাঙ্গীর আলম, নেহাল, মো. বোরহান, মো. তুহিন, জাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, বাছির আহাম্মদ, মো. মিজান, আলমগীর হোসেন, কছির আহম্মেদ, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, তারেক আজিজ সুজন ও মো. টিপন ওরফে জাহাঙ্গীর আলম। রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মধু ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত টিপন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা পলাতক। এ ছাড়া রায়ে দুই আসামি খালাস পেয়েছেন।

নিহত মামুনুর রশীদ চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ছাত্রলীগ কর্মী ও আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু তৈয়ব খানের ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, রাজনীতি করা নিয়ে মামুনুর রশীদের সঙ্গে জিসান বাহিনীর প্রধান সোলায়মান উদ্দিন ওরফে জিসানের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জিসান বাহিনীর সদস্যরা মামুনুরকে হত্যার হুমকি দিতো। এরই মধ্যে জিসান র‍্যাবের হাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এরপর জিসানের ছোট ভাই তুহিন সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হয়ে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছিলেন। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজনকে গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা করেন মামুনুর ও পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের ওমর ফারুক।

জিসান হত্যার ঘটনায় মামুনুর ও ওমর ফারুককে দায়ী করেন তুহিন। এ কারণে তুহিন তার সহযোগীদের নিয়ে মামুনুর ও ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৫ সালের ১৮ মে রাতে মোটরসাইকেলযোগে মামুনুর চাটখিলের দেলিয়ার বাজার থেকে বাড়ির দিকে আসছিলেন। পথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন মামুনুরের ভাই ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

পিপি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ২১ আসামির নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় দেন বিচারক।’

/এএম/
সম্পর্কিত
পাবনায় কিশোরী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ধর্ষণের শিকার শিশু ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় মামলা
সাত মামলায় ডা. দীপু মনির জামিন আবেদন
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম