কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের খোশবাস উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মহড়া দেওয়া ব্যক্তিরা কারা এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র প্রদর্শন করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার তৎপরতা চলমান আছে।
ভাইরাল হওয়া ৪৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে স্কুল মাঠে মহড়া দিচ্ছে কয়েকজন যুবক। এর মধ্যে কমলা ও সাদা রঙের টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও স্যান্ডেল পরা দুই যুবকের হাতে এক ফুটেরও বেশি লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র। তারা বার বার সামনের দিকে তাক করছিলেন। আর হলুদ রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবকসহ কয়েকজন তাদের শান্ত করছিলেন।
মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ও পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গত ১২ আগস্টের। মহড়া দেওয়া দুজন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী রিয়াজ হোসেন ও ফরহাদ হোসেন। ১২ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতি সভা চলাকালে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতি সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে একটি ব্যানার লাগানো হয়। ওই ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলামের ছবির সঙ্গে রিয়াজ হোসেন ও ফরহাদ হোসেনের ছবি দেওয়া হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ইউনিয়ন যুব লীগের যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম খোকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে অস্ত্র নিয়ে ফরহাদ ও রিয়াজ খোরশেদ আলম খোকার লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ মাঠে উভয় গ্রুপের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় মাঠে একাধিক ককটেল ফাটায়। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে খোরশেদ আলম খোকার পক্ষের কাউকে দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন বলেন, ব্যানার ছেঁড়ার পর এসে দেখি রিয়াজ ও ফরহাদ অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। তখন তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তারা গুলিও চালায়নি।
কেন তারা এসেছিল? এবং কার অনুসারী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা জানি না তারা এভাবে কেন এসেছিল। তারা কার অনুসারী এ বিষয়েও জানি না।
যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম খোকা বলেন, যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তাদের শুধু নামই জানি। আর কিছুই জানি না। তাদের কোন পদবীও নেই। এভাবে অস্ত্রসহ তারা কেন এসেছিল তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
ব্যানার ছেঁড়ার বিষয়ে তিনি জানান, শোক দিবসের ব্যানারে তাদের ছবি দেখে আমাদের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়। তাই ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরই ককটেলের শব্দ হতে থাকে। বাইরে গিয়ে দেখি, অস্ত্র নিয়ে তারা মহড়া দিচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
শনিবার বিকালে কুমিল্লার বরুড়া থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, আমরা অস্ত্র প্রদর্শনের পরে জানতে পারলেও তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিযান চলছে। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।









