মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসা পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রলার রাতের আঁধারে নিয়ে গিয়ে শনিবার (৪ নভেম্বর) রাতে পৌরসভাস্থল টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্তের ট্রানজিট ঘাটে খালাসের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কেউ অবগত নন বলে জানান। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মবহির্ভূত অবৈধ উপায়ে বন্দরের বাইরে পণ্য খালাসকে চোরাচালান বলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মিয়ানমার থেকে একটি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। দুপুরে ওই ট্রলারের ওপরে বসে এক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন।
পরে ট্রলারটি বন্দরে খালাস না করে রাতের আঁধারে ট্রানজিট ঘাটে নিয়ে যায়। ট্রানজিট ঘাটে কড়া পাহাড়ায় ছয় ট্রাকে অবৈধভাবে পণ্যগুলো খালাস করা হয়। রাতের আঁধারে খালাস করা পণ্য আসলেই কী পেঁয়াজ নাকি মাদকের চালান এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে ওই ট্রলারে ১০০ টন পেঁয়াজ ছিল বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র।
এই ঘটনায় টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দীন জানান, পেঁয়াজ বোঝাই ট্রলার বন্দর থেকে খালাস না করে ট্রানজিট ঘাট দিয়ে খালাস করা হয়েছে। বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দা ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, এই বিষয়ে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা এ এস এম মোশারফ হোসেন এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।
স্থলবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুরাদ জানান, বন্দরের বাইরে সীমান্ত দিয়ে পণ্য খালাস হলে সেটি চোরাচালান। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সেখানে হস্তক্ষেপ করার বৈধতা থাকলেও লোকবল না থাকায় তিনি কিছুই করতে পারছেন না। এ বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকনাফ স্থল বন্দর ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্যগুলো ওমর ফারুক ও যদু বাবু নামের দুই ব্যবসায়ীর।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাতে পেঁয়াজগুলো ছয়টি ট্রাক বোঝাই করে টেকনাফ থানার সামনে দিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয়রা।








