গত ৯ দিনে ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করেছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা। এর মধ্যে ১১টি মামলার বাদী হয়েছে পুলিশ এবং ছয়টির বাদী হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসব মামলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৮ অক্টোবর থেকে সোমবার (০৬ নভেম্বর) পর্যন্ত এসব মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচিসহ গত কয়েকদিনে বিএনপি-জামায়াতে নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নাশকতা, জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন ও মহাসড়কে অবরোধ, যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এসব ঘটনায় নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে জেলার ছয়টি থানায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদর মডেল থানায় ১১টি মামলা, সোনাগাজী থানায় দুটি এবং দাগনভূঞা থানা, ছাগলনাইয়া থানা, ফুলগাজী থানা ও পরশুরাম থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।
ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল রবিবার বিএনপি-জামায়াত অবরোধের নামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল ও ফাজিলপুর এলাকায় মুহুরি সেতু এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয় ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ওই দুই স্থানে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। এ সব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। গতকাল রাতে ফেনী ও সোনাগাজী থানা এলাকার অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে গায়েবি মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠাচ্ছে পুলিশ।’
জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ‘ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত থাকলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না৷ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’









