X
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
১২ ফাল্গুন ১৪৩০

সন্ত্রাসীর মানবাধিকার নিয়েও কেউ কেউ সোচ্চার: হাছান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৪৯আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮:২৩

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কোনও কোনও সন্ত্রাসীর মানবাধিকার নিয়েও কেউ কেউ সোচ্চার হয়। কিন্তু সেই সন্ত্রাসী যে এত মানুষ মারলো, সেটি নিয়ে কোনও কথাবার্তা নাই। পৃথিবীতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন আছে, যেগুলো মূলত মানবাধিকারের ব্যবসা করে। যে সমস্ত বিশ্ববেনিয়া মানবাধিকারের কথা বলে এবং বাংলাদেশেও যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন; ফিলিস্তিনে পাখি শিকার করার মতো মানুষ শিকার করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষসহ দশ হাজারের বেশি নারী ও শিশুকে হত্যা করা হলো, কিন্তু এটি নিয়ে বড় বড় সংগঠনগুলোর কোনও কথা ও বিবৃতি নেই। অথচ তারা বরিশালে একজন আরেকজনকে ঘুষি মারলো এবং কোথায় কিছু মানুষ একজনকে ধাওয়া করলো সেজন্য বিবৃতি দিলো। আমি কথাগুলো বলছি, কারণ আগামী পরশু দিন ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।’

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কোনও কোনও দেশকে দমন করে রাখার চেষ্টা করা হয়। দেশে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, অথচ বিবৃতিজীবীরা হারিয়ে গেছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত হচ্ছে।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ এবং সেটিকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করা। দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ১৯৭৭ সালে নির্বিচারে সেনা অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসারদের হত্যা করা। একজনের নামের সঙ্গে আরেকজনের মিল আছে সেজন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর রায় হয়েছে, এমন ঘটনাও আছে। তারপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব। এগুলো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘কিছু বিবৃতিজীবী আছেন, বিবৃতি দেওয়াই তাদের পেশা। বাংলাদেশেও কিছু বিবৃতিজীবী আছেন। ইদানীং অবশ্য তাদের দেখা যাচ্ছে না। বিবৃতিজীবীরা বেশিরভাগ হারিয়ে গেছেন। দেশে যেভাবে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, সব সময় যারা এ ধরনের বিবৃতি দেন, তাদের বিবৃতি এখন দেখতে পাচ্ছি না। এই বিবৃতিজীবীরা কই? জনগণ এদের খুঁজছে। আমিও তাদের খুঁজছি। আমি একটু উদ্বিগ্ন তাদের জন্য। তারা জ্বর কিংবা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো কিনা তা নিয়ে মানুষ চিন্তায় আছে।’

চেক বিতরণকালে তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে একই হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচশ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে হাসপাতালকে অকেজো করে দেওয়ার পর সেখানে আইসিইউতে থাকা সব মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এই ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্ববেনিয়ারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। আবার ইসরায়েলি বাহিনী যাতে ভালোমতো বোমাবর্ষণ করতে পারে সেজন্য সহায়তাও করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই মানবাধিকার লঙ্ঘন, এতে আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমি প্রথম থেকেই এটার বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি এবং থাকবো। আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীও আছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে এটার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। আরব রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসে এই ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করার জন্য তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কেউ হরতাল-অবরোধের ডাক দিতে পারে। সরকার পতনের ডাক দিতে পারে, সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে পারে, এটিই গণতান্ত্রিক ও বহুমাত্রিক সমাজের রীতি। কিন্তু ঘরে বসে সেই ডাক দিয়ে গাড়ির মধ্যে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, সেটি তো কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। এগুলো একদিকে যেমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপরদিকে মানুষের অধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা। আমি আশা করবো, সাংবাদিকরা এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবেন, কলম ধরবেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেলো আলপনা আক্তার, কল্পনা আক্তার, জল্পনা আক্তাররা বছরে ১২ বার বিদেশ গেছে। ১৮-২০ লাখ টাকা বিমান ভাড়া দিয়েছে। এদের কারও কারও আবার গাড়ি আছে। ঢাকা শহরে বড় বড় ফ্ল্যাট আছে। শ্রমিক সমাবেশে যাওয়ার সময় কিছু দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে কিংবা রিকশায় যান, যদি শ্রমিকরা গাড়ি দেখে ফেলে। এরা কীভাবে এবং কারও এজেন্ট হিসেবে কাজ করে সেটি আজকে স্পষ্ট। এ সমস্ত এজেন্টের ব্যাপারেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমি সাংবাদিক সমাজের কাছে অনুরোধ জানাবো তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও সভাপতি তপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি রুবেল খান, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক প্রমুখ।

/কেএইচটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
লাগামহীন নৈরাজ্যে নিষ্ঠুর চিকিৎসা খাত: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান
‘সরকার পরিবর্তন করতে হলে বিএনপিকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে’
আমাদের পক্ষে আর কোনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
নেই সংযোগ সড়ক, ২৩ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে
নেই সংযোগ সড়ক, ২৩ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে
১ মার্চের মধ্যে শপথ নেবেন পাকিস্তানের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী
১ মার্চের মধ্যে শপথ নেবেন পাকিস্তানের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী
বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি, আবেদন ফি ৬০৯ টাকা
বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি, আবেদন ফি ৬০৯ টাকা
নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তহবিল চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তহবিল চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
গানে বাধা দিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ না করার মুচলেকা দিলেন সাবেক শিক্ষার্থী
গানে বাধা দিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ না করার মুচলেকা দিলেন সাবেক শিক্ষার্থী
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে যা শিখেছে পেন্টাগন
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে যা শিখেছে পেন্টাগন
অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘না’
অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘না’
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক