চট্টগ্রামে ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলিবর্ষণকারী শামীম আজাদ ওরফে ব্লেড শামীমকে খুলশী থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে র্যাব সদরদফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৭ এর যৌথ দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন কুমিরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার শামীম আজাদ মীরসরাই উপজেলার সায়েরখালী এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
বেলা ১১টায় এ প্রসঙ্গে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম র্যাব -৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
ব্রিফিংয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, শামীম আজাদ মীরসরাই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নগরীর খুলশী এলাকায় বসবাস করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে খুলশী ও তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় তার সহযোগীদের নিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল শামীম।
গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র এলাকায় শামীম আজাদের নেতৃত্বে দেশি ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে সহিংসতার ও নাশকতার মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গ্রেফতার শামীম আজাদ একটি বিদেশি পিস্তল দিয়ে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় ভোটার শান্ত বড়ুয়া এবং জামাল নামে দুই জন গুরুতর আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, শামীম আজাদ চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনবার কারাভোগ করেছেন।
এর আগে, রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলশী থানাধীন পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে নৌকা ও ফুলকপি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে শামীম আজাদ প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছবি ভাইরাল হয়।









