কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগে ভোগছিলেন। স্ত্রী ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন এই চিকিৎসক। ওয়াহীদুজ্জামান কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে। ২১তম বিসিএস পাস করে ২০০৩ সালের ২১ মে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগ দেন। ২০২১ সালের ২৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন চিকিৎসক মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামানের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। তার স্ত্রী-সন্তান ও ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তারা আসার পর জানাজা ও লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
ওয়াহীদুজ্জামানের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় যোগ দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে যান ওয়াহীদুজ্জামান। সভা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্মস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আসেন। সেখানে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সহকর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইসিইউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৩টার দিকে মারা যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘দুপুরে তত্ত্বাবধায়ক ওয়াহীদুজ্জামানের ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকালে আইসিইউতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন ওয়াহীদুজ্জামান। চিকিৎসক-নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথা সময়ে কর্মস্থলে আসা নিশ্চিত করেন। তার যোগদানের আগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ খোলা থাকতো। তিনি সকালের পাশাপাশি বৈকালিক চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাত ৮টা পর্যন্ত প্যাথলজি বিভাগ চালু করেন। এতে চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সেবার মানের দিক দিয়ে গত বছর সারাদেশে প্রথম হয়েছে এই হাসপাতাল।
তার অবদানের কথা স্বীকার করে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, ‘জেলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন তত্ত্বাবধায়ক ওয়াহীদুজ্জামান। জেলাবাসী সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছেন। সবই এই মানুষটার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার ফসল। কাজপাগল মানুষ ছিলেন। সবার কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’









