কুমিল্লার মুরাদনগরে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে স্ত্রীর ভাড়াটে খুনিরা উপজেলার আকবপুর নোহাটি গ্রামের প্রবাসী ময়নাল হোসেনকে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহদ বিন আমীন চৌধুরীর আদালতে নিহত ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমা বেগম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান।
২০১৫ সালের ১ নভেম্বর গভীর রাতে মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা হাহাতি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রবাসী ময়নাল হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৮ মার্চ প্রবাসীর স্ত্রী এবং পরদিন তার প্রেমিক শরীফুল ইসলামকে গ্রেফতারের পরই উন্মোচিত হয় হত্যাকাণ্ডের রহস্য।
ডিবি পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর নোহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ময়নাল হোসেনের সঙ্গে ১০ বছর আগে একই উপজেলার জাড্ডা হাহাতি গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে তাছলিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে। সৌদি আরব যাওয়ার পর ময়নাল সব অর্থ স্ত্রী তাছলিমার কাছে পাঠাতেন। স্ত্রী ওই অর্থ দিয়ে নিজের নামে জমি কিনেছেন।
এদিকে,স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাছলিমা বেগম একই গ্রামের শরীফুল ইসলাম নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের ৩০ অক্টোবর ময়নাল হোসেন দেশে আসার পর বিদেশে থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব এবং স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এতে স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছয়জন সন্ত্রাসীর সঙ্গে চুক্তি করেন।
পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে সন্ত্রাসীরা প্রবাসী ময়নালকে খুন করে লাশ একটি খালে গুম করেন। পরে তাছলিমা গত ৭ নভেম্বর মুরাদনগর থানায় স্বামী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন‘তার স্বামী ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।’
মুরাদনগর থানা পুলিশ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করলেও ঘটনার রহস্য বের করতে পারেনি। পরে ওই প্রবাসীর মা আমেনা খাতুন কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবর তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই শাহ কামাল আকন্দ তদন্ত শুরু করেন।
অভিযোগের সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ প্রবাসী ময়নালের স্ত্রীর নিকটাত্মীয় জাকির ও জুয়েলকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ গত ৮ মার্চ কুমিল্লা নগরী থেকে ডিবির একটি টিম তাছলিমাকে গ্রেফতারেরপর তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক কাহিনী। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাছলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকেও।
এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, বিদেশ থেকে পাঠানো স্বামীর অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে কেনা সম্পত্তি এবং স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ে সন্দেহ থেকেই দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এর জের ধরে ওই প্রবাসীকে হত্যা করা হয়।
ডিবি পুলিশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক এবং নিহতের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
/বিটি/এমএসএম/এইচকে/








