প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা আদনান হাবিবকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ১২ ঘণ্টা পর পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পেলেন হাবিব। আরেকটি স্থগিতাদেশের মাধ্যমে পদে বহাল হয়ে যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হৃদয়।
প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে শনিবার সকাল ৮টার দিকে হাবিবকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে অব্যাহতির আদেশ স্থগিত করে দেয় উপজেলা ছাত্রদল।
স্থগিতাদেশপত্রে উল্লেখ করা হয়, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিবের অব্যাহতির আদেশ স্থগিত করা হলো। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অধিকতর তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হৃদয় ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল রহমান রিফাত স্বাক্ষর করেন।
এর আগে অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রদলের নির্দেশনা ভঙ্গ ও বিশৃঙ্খল কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদনান হাবিবকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। অব্যাহতিপত্রে উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষর ছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী রেহানা বেগমের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন আদনান হাবিব। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হৃদয় ও সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল রহমান রিফাতের নির্দেশে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১৪ আগস্ট উপজেলা ছাত্রদলের দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শান্ত ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু জবাব তিনি দেননি। ফলে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আদনান হাবিব বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপিতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়রা এটি করেছেন। জেলা নেতাদের নির্দেশে অব্যাহতির আদেশ ১২ ঘণ্টা পর স্থগিত করা হয়।’
মাহফুজুর রহমান হৃদয় বলেন, ‘আদনান হাবিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য। তবে কেন্দ্র থেকে আপাতত বহিষ্কার বা অব্যাহতির বিষয়ে নিষেধ রয়েছে। এজন্য অব্যাহতির আদেশ স্থগিত করেছি আমরা।’









