নোয়াখালী-১ ও ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এএইচ এম ইব্রাহীম ও মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছেন সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় গুলিতে নিহত আসিফের বাবা মো. মোরশেদ আলম। এই মামলায় অজ্ঞাত দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সোনাইমুড়ী থানার সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আসিফ নিহত হন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বাদীর অভিযোগ নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার জন্য সোনাইমুড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৫ আগস্ট দুপুরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ত্যাগের পর ছাত্র-জনতা আনন্দ মিছিল করতে যায়। ওই সময় মামলার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, এইচ এম ইব্রাহীম ও সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলামের নির্দেশে অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মিছিলে হামলা এবং গুলি চালায়। তখন উপস্থিত জনতা প্রাণ ভয়ে সোনাইমুড়ী থানায় আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে আসামিরা থানায় এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে মিছিলে থাকা আসিফ (২৪) গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মামলায় ৩৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত দুই হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছালে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার প্রধান দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ও এইচ এম ইব্রাহীম ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে মামলার ৩ নম্বর আসামি মমিনুল ইসলাম এলাকায় রয়েছেন। অন্য আসামির বেশিরভাগই বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন।









