ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যার পানি যত কমছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। স্রোতে ভেঙে গেছে বিভিন্ন সড়ক। অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে। এখনও কিছু বাড়িঘরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে গত মঙ্গলবার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বন্যা শুরু হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার কালন্দি খাল, জার্জি খাল ও হাওড়া নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় ভেসে উঠছে ক্ষতের চিহ্ন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এখনও বেশ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার আখাউড়ায় বন্যা দেখা দেয়। এতে উপজেলার বঙ্গেরচর, কালিকাপুর, আব্দুল্লাপুর, বাউতলা, সাহেবনগর, অমরপুর, আইড়ল ও খলাপাড়াসহ ৪০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্যার পানি বেড়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানির বেগ কমায় এবং বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে থাকে। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়। ফলে বেশিরভাগ বাড়িঘর থেকে পানি নেমে যায়। তবে কয়েকটি বাড়িঘরে কেউ কেউ পানিবন্দি আছেন। আড়িয়ল ইউনিয়ন ও খলাপাড়া এলাকায় হাওড়া নদীর দুটি বাঁধসহ অন্তত আট স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। এতে করে এসব সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ আছে। এসব এলাকার পানি ধীরগতিতে নামছে।
এদিকে, পানি নেমে গেলেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখনও বন্ধ রয়েছে আখাউড়া স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। পাশাপাশি আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়েও যাত্রী পারাপার বন্ধ আছে। পানির স্রোতে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের আব্দুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর এলাকায় পিচ উঠে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হাওড়া নদীর পানির কমছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আরও চার সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। বর্তমানে এই নদীর গঙ্গাসাগর পয়েন্টে পানির সমতল রয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ মিটার। ফলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।’
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভিন বলেন, ‘উপজেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। চারটি আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৪ কিলোমিটার সড়ক ও ১০টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুকনা খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। কারও পানির সংকট নেই। কারণ, কোনও নলকূপ পানিতে তলিয়ে যায়নি। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে দ্রুত। বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও সড়ক মেরামত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচলের চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’









