একাডেমিক কাউন্সিলে শিক্ষককে মারধর, এক বছর পর অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট ২০২৪, ১০:১০আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ১০:১০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলে হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন আইন বিভাগের বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিক।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদারের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।

অভিযোগপত্রে আবু বকর ছিদ্দিক উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আইন বিভাগের একাডেমিক কমিটির ১২১তম সভা চলাকালে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী মুর্শেদ কাজেম কর্তৃক আমি সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হই এবং শারীরিকভাবে চরম লাঞ্ছিত হই। কোর্স বণ্টন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে আমার বাবা-মা তুলে গালাগাল করেন এবং আমি প্রতিবাদ করলে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার মুখে প্রচণ্ড আঘাত করে। আঘাতের ফলে আমার চশমা ভেঙে যায় এবং মুখে জখম হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে ওই দিনই সাবেক উপাচার্য ও আইন অনুষদের সাবেক ডিন ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের সঙ্গে দেখা করে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু উক্ত শিক্ষক তখন উপাচার্যপন্থি হওয়ায় এবং উপাচার্যের আস্থাভাজন হওয়ায় বিষয়টি ওখানেই মিটমাট করে ফেলতে উপাচার্য আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষকদের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কেন পত্রিকায় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলো এটা নিয়ে আমার ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন। আমি উপ-উপাচার্যের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করছি বলে মিথ্যা অভিযোগ দেন এবং উক্ত ঘটনায় লিখিত অভিযোগ না দিতে বলেন। লিখিত অভিযোগ দিলে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচনার এক পর্যায়ে বিষয়টির বিচারের ভার আমি ওনার ওপর ছেড়ে দিলে উনি রাগান্বিত হয়ে মিটিং ছেড়ে উঠে যান এবং বিষয়টি বিভাগের একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে মীমাংসা হয়ে গেছে মর্মে রেজ্যুলেশন নিয়ে আসতে বলেন। উপাচার্যের এমন মন্তব্যে আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং বিষয়টি সেভাবেই অমীমাংসিত থেকে যায় যেটি তৎকালীন উপাচার্যের বিচারহীনতার মানসিকতার প্রতিফলন ছিল। 
এমতাবস্থায়, বিভাগের একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে একজন জুনিয়র শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ছাড়া ওই শিক্ষক আগেও বেশ কয়েক বার আমাকে হেনস্তা করেছে এবং ওনাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, আমি আমার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার পাওয়ার জন্য অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি।

গত বছরের ঘটনা এতদিন পরে কেন অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে সময় সাবেক উপাচার্য আবদুল মঈন আইন বিভাগের ডিন ছিলেন যার কারণে আমাকে এই ঘটনা না বাড়াতে নানা রকমের হুমকি দিয়েছিলেন। তাই আমি অভিযোগপত্র জমা দিতে পারিনি, তাছাড়াও অভিযোগপত্র যেন জমা না দেই এই জন্য উনি অনেকভাবে আমাকে শাসিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুজিবর রহমান মজুমদার বলেন, আমি অভিযোগ পত্রটা পেয়েছি। যেহেতু বর্তমানে উপাচার্য পদ শূন্য সেক্ষেত্রে নতুন উপাচার্য নিয়োগ হলে তার সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলবো।

/এফআর/
সম্পর্কিত
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
আমার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে: আমির হামজা
এনসিপির নেতাকে পিটিয়ে পুলিশে দিলো কারা?
সর্বশেষ খবর
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি