নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল ট্রলারে থাকা ১০ মাঝি-মাল্লা ও জেলেকে পিটিয়ে জখম করে। ডাকাতদের ভয়ে সাগরে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন আমির হোসেন (৩০) নামের এক জেলে। ডাকাত দল ট্রলার থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ, এক লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল ও ১৩টি মোবাইল নিয়ে যায়।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ জেলের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল রাত গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আমির হোসেন হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আলী আহমদের ছেলে।
আহতরা হলেন- ট্রলারের সারেং সালা উদ্দিন (৪৬), জেলে সানা উল্লাহ (৫০), নূর নবী (২৮), আব্দুর রহিম (২৭), মোবারক হোসেন (২১) ও ইসমাঈল হোসেন (৩২) সহ ১০ জন।
সারেং সালা উদ্দিন জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর মাছ ধরার জন্য ১৬ জেলেসহ সাগরে যান তিনি। গতকাল রাত ১০টার দিকে সাগরে জাল ফেলতে থাকেন তারা। জাল ফেলা শেষ করে সবাই ট্রলারে অবস্থান করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি ট্রলারযোগে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত এসে ট্রলারে হামলা চালায়। এ সময় কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা ট্রলারের ওপরের অংশে থাকা জেলেদের এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বন্দুক বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং এক ডাকাত আমিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিতে গেলে সে সাগরে লাফ দেয়।
তিনি আরও জানান, এ সময় ডাকাতরা ট্রলার থেকে মাছ, তেল ও সবার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমিরের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমির নিখোঁজের ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্রলারে ডাকাতির ঘটনায় আদালতে একটি মামলা করা হবে।
হাতিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, জেলে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের কোনও সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।









