চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সেই পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সাপদি গ্রামের নোয়ারাজা জমাদার বাড়ির রাস্তার পাশের বাঁশবাগান থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
পুলিশ সুপার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় রক্ষিত পাবলিক গান রেজিস্টার খাতা যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, উদ্ধারকৃত পিস্তল ও গুলি সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খানের। গত ৫ আগস্ট বালিয়া ইউনিয়নের বাগাড়া বাজারে জনতার পিটুনিতে নিহত হন সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান। ওই সময় তাদের কাছে থাকা একটি শটগান থানায় জমা দেওয়া হলেও পিস্তল এবং গুলি উদ্ধার হয়নি। আমাদের ধারণা, সেদিন সেলিম খানের কাছ থেকে পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাতে এলাকা ছেড়ে থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে তারা জনরোষে পড়েন। সেখানে নিজের পিস্তল থেকে গুলি করে বেঁচে আসতে পারলেও বাগাড়া বাজারে এসে জনতার মুখোমুখি হন। সেখানেই জনতার পিটুনিতে নিহত হন তারা।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেলিম খান চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। এসব ঘটনায় জেলও খাটেন। দুদকে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী ছিলেন সেলিম খান। তার পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই-তে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছেলে শান্ত খান।









