২০ জনকে চাকরি থেকে অপসারণের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ করে আন্দোলনে নেমেছেন কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর এলাকায় কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর অফিসে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয় তারা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৪-এ বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ থাকে।
এদিকে, কুমিল্লার চারটি সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় থেকে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা ৬টায় সংযোগ স্বাভাবিক হয়।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের সরসপুর ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘সারা দিন এমনিতেই বিদ্যুৎ কম থাকে। যদি কারও দাবিদাওয়া থাকে, তাহলে জনগণকে হয়রানি করবে কেন? এটা জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। এসব চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে।’
নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, ‘দাবিদাওয়া থাকবেই। তাই বলে সব সময় জনগণকে হয়রানি করে কেন? দেশে এখন দাবি মানেই জনগণের হয়রানি।’
আন্দোলনকারীরা জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন, চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিতদের চাকরি নিয়মিত করাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই মধ্যে বুধবার (১৬ অক্টোবর) পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ১০ জন এবং বৃহস্পতিবার আরও ১০জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নামেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বৃহস্পতিবার উত্তর রামপুর এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্মেলন কক্ষে বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বিদ্যুৎ রাষ্ট্রের সম্পদ, এটা বন্ধ করা যাবে না। তারা সংযোগ স্বাভাবিক করেছে। তাদের দাবির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে এবং চাকরিচ্যুত জিএমদের পুনর্বহাল না করলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি সমিতির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধরা।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কুমিল্লা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরিজ, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া খানমসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের কর্মকর্তারা।









