‘পাহাড়ে শান্তির জন্য পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে, অবৈধ অস্ত্রগুলোও জমা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কেন হত্যা, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি চলছে? এখন আবার অবৈধ অস্ত্র এলো কোথা থেকে?’ বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই কথা বলেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা।
পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজি বন্ধ, আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযানসহ পাঁচদফা দাবিতে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘সচেতন পার্বত্য জনগণ’ ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ।
সকালে শহরের পৌর চত্বরে জমায়েত হন শহরবাসী। শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। যান চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। বেসরকারি বিভিন্ন অফিস বন্ধ করে দেন চাকুরিজীবীরা। তারা দলে দলে বিক্ষোভে যোগ দেন।

সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর চত্বর থেকে শুরু হয়ে নিউ মার্কেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরী, রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দে, অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান, বাঙালি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল।

সমাবেশ চলাকালে প্রায় পুরো শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন-গুমের জন্য আঞ্চলিক দলগুলোকে দায়ী করেন। তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি ভেবে থাকেন, অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে চিরকাল জিম্মি করে রাখবেন, তবে ভুল করবেন। এখন থেকে আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত করা হবে।’
তারা অবিলম্বে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান।
/এফএস/টিএন/








