চট্টগ্রামের সিটি গেট এলাকায় সোমবার (১৮ আগস্ট) ভোরে কাভার্ডভ্যানে পিকআপের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ জন। নিহতদের মধ্যে একজন জুয়েল দাস (১৮)। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় জুয়েলকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা ও স্বজনরা।
নিহতের মা লিমা দাস বলেন, আমার ছেলে জুয়েল দাস রবিবার রাতে ফৌজদারহাটে মনসা পূজায় গিয়েছিল। সঙ্গে তার আরও কয়েকজন বন্ধু ছিল। পূজা শেষে সোমবার ভোরে বাড়িতে ফিরছিল। ফৌজদারহাট থেকে ওই পিকআপে ওঠে। এর মধ্যে পথে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার ছেলে মারা গেলেও তার বন্ধুরা আহত হলেও বেঁচে আছে।
হাসপাতালের এক কোণায় কাঁদছিলেন নিহত অজিত দাসের স্ত্রী টকি বালা দাস। তিনি বলেন, আমার সংসারে একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিল স্বামী অজিত দাস। আমার স্বামী মাছ বিক্রি করে আমাদের সংসার চালাতো। আমার সংসারে দুই মেয়ে এক ছেলে। মাথার ওপর আছে প্রায় লাখ টাকার ঋণের বোঝা। আমার বড় মেয়ে প্রেমা দাস (১৫) ফৌজদারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে প্রমিক দাস (৭) ও প্রেমশ্রী দাস (৩)। কীভাবে আমার সংসার চলবে বুঝতে পারছি না।
নিহত আকাশ দাসের ভাগ্নে জয়ন্ত দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আকাশ দাস পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিন ফিশারি ঘাট থেকে পাইকারি মাছ কিনে ফৌজদারহাট বাজারে বিক্রি করতেন। সোমবার ভোরে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের আকবর শাহের সিটি গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। আহত হন পাঁচ জন। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই মাছ ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তারা চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে যাচ্ছিলেন মাছ কেনার জন্য।
নিহতরা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগ (৩২), সীতাকুণ্ড বার আউলিয়ার দক্ষিণ সেনাইছড়ি শীতলপুর এলাকার সুবল দাসের ছেলে জুয়েল দাস (১৮), সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকার উত্তর সলিমপুর জেলেপাড়া এলাকার বালি দাসের ছেলে আকাশ দাস (২৬), একই এলাকার কমল হরি দাসের ছেলে রনি দাস (২৫) ও কালাবাসী দাসের ছেলে অজিত দাস (২৪। এর মধ্যে সোহাগ পিকআপ চালক।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন কপিল দাস (১৮, অগ্নি দাস (১৮) ও দিপু দাস (৩২)। আহত অপরজনের নাম পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহের সিটি গেট এলাকায় ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হন বেশ কয়েকজন। আহতদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি।
নগরের আকবর শাহ থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পিকআপ ভ্যানটির সামনে তিন ও পেছনে সাত যাত্রী ছিলেন। নগরের সিটি গেট এলাকায় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও চার জন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের সামনে থাকা তিন জনসহ মোট চার জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আরেকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত চারজন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।









