ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারীরা। সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে অসংখ্য যানবাহন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগার হাট এবং বারবকুণ্ড এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অনুসারীরা। এ ছাড়াও সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী, কুমিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এরই মধ্যে আসলাম চৌধুরী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। পোস্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড সংযুক্ত করে তিনি দাবি করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্যমতে ওই আসনে পুনর্নিবাচন হলে তার প্রার্থিতায় কোনও আইনি বাধা থাকবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করাত দিয়ে মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে সেগুলোর গুঁড়ি সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ করেছেন অনুসারীরা। পুরো গাছ কেটেও রাখা হয়েছে সড়কে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী। সড়কে অবরোধের কারণে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ডিউটি অফিসার জানান, মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরছালিন বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আজ এ রায়ে সীতাকুণ্ডের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। তবে আমরা দলীয়ভাবে কোনও কর্মসূচি দিইনি। শুনেছি ক্ষুব্ধ হয়ে নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। আজ সন্ধ্যায় মিটিংয়ে কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে পুলিশ।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারি হিসাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।
পরে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর করে আজ মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই প্রেক্ষাপটে আসনটিতে কি আবার নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে—এমন আলোচনা সামনে এসেছে।









