চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘মেয়র পদে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে আমার। জোর করে মেয়র পদে বসিনি। আদালতের আদেশে মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। আদালত আমাকে পাঁচ বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে বৈধতা দিয়েছেন। তাই আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে পুনরায় আদালতের কাছে যেতে পারেন।’
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। নগরের শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আমি আহ্বান জানাই। একটি বৈধ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নির্বাচন চাই। আর নির্বাচন হওয়া দরকার, যাতে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে যেন সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং জনগণ তাদের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন।’
এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে এখন যে সেবা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল এবং মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নেন শাহাদাত হোসেন।
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের আর্থিক সহায়তায় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামক ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে তিন কোটি টাকা। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী খুব সহজে ঘরে বসেই নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সমাধানের অগ্রগতিও জানতে পারবেন। তারা সিটি করপোরেশনের সেবার মান নিয়ে, কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত দিতে পারবেন।









