চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর সময় সীমান্তবর্তী জেলা যশোর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের গুরু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালাচ্ছেন। ভারতে আগে থেকে অবস্থান করছেন বড় সাজ্জাদ। ইমন সেখানে বড় সাজ্জাদের কাছে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, দেশে ধরা পড়ার সম্ভাবনা দেখে বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে ইমন। বুধবার সকাল ৬টায় তার ঝিকরগাছা পৌঁছানোর কথা ছিল। কে সীমান্ত পার করে দেবে এবং সেদিকে তাকে কে গ্রহণ করবে সবকিছুই আগে থেকে ঠিক করা ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই দশক ধরে বিদেশে বসেই সাজ্জাদ আলী খান নিয়ন্ত্রণ করছেন নগর ও জেলার বিস্তৃত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক। সাজ্জাদ ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামির তালিকায় আছেন। নগরের চালিতাতলী এলাকার ঠিকাদার আবদুল গণির ছেলে সাজ্জাদ আলী খান মূলত অপরাধজগতে পরিচিত হন ১৯৯৯ সালে কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান খুনের পর। ওই মামলায় সাজ্জাদ খালাস পান।
২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছয় নেতাকর্মীসহ আট জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার দাবি ‘এইট মার্ডার’ নামে পরিচিত সেই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাজ্জাদ। একই বছরের অক্টোবরে একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেফতার হন সাজ্জাদ। পরে জামিনে বেরিয়ে ২০০৪ সালে তিনি দেশ ছাড়েন।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্য গুরুতর অপরাধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।









