চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৫ মেট্রিক টন চাল পাচারের সময় উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের বিপণিবাগ এলাকা থেকে চালসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা ছিল। এ জন্য দুপুরে চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) গোডাউন থেকে এসব চাল নেওয়া হয়। কিন্তু লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে চাল না নিয়ে আগেই বিক্রি করে দেন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। চালগুলো এক ব্যবসায়ীর কাছে লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী চালগুলো লাকসামে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে চাল উদ্ধারের চেষ্টা চালায় প্রশাসন। পরে হাজীগঞ্জ থেকে চালভর্তি পিকআপটি চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ টন চাল জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।
উদ্ধার করা চাল পরে চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) গোডাউনে রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
চালের ক্রেতা পরিচয় দেওয়া ইউনুস বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাঁচ মেট্রিক টন চাল কিনেছি। দুপুরে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর সেগুলো জেলার বাইরে পাঠাচ্ছিলাম। তবে পথে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে প্রশাসনের নির্দেশে চালের গাড়িটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।’
ইউনুসের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম বলেন, ‘গোডাউন থেকে চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু পরে খবর পাই চালগুলো অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চাল বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
খবর পেয়ে বিকালে প্রত্যয় হাসেম ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় চালের ক্রেতা ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ‘বিষয় নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এতে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অন্যায় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করেছি। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’