চট্টগ্রামে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন। গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। বছরের শেষ দিকেও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৩২৩ জন। তাদের মধ্যে মারা যান ৪৫ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬৪ জনে। তবে ওই বছর মৃত্যুর সংখ্যা কমে ২৭ জনে নেমে আসে। আর চলতি বছরের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩৪১ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। বছরের শেষ দিকে এসেও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন।
নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৩৭ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চারজন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঁচজন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩৩ জন রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৩৪১ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১৫৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৫ জন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান জানান, চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকায় রয়েছেন ৩ হাজার ২৬ জন। উপজেলা পর্যায়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৬ জন। এ ছাড়া অন্যান্য জেলার বাসিন্দা ৬৭৯ জন চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৩১ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ১৬ জন নারী ও নয়জন শিশু।
উপজেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি সীতাকুণ্ডে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।