টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ অভিযুক্ত ১০ আসামির অস্থাবর মালামাল জব্দ করেছে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার জুমার নামজের সময় থেকে সব পলাতক আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কোনও মূল্যবান মালামাল জব্দ করতে পারেনি পুলিশ।
টাঙ্গাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক ভূইয়া জানান, মালামাল জব্দের বিষয়ে আদালতের আদেশের খবর পাওয়ার পরপরই আসামিরা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র বাসা থেকে সরিয়ে ফেলেছে। ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ অভিযুক্ত অপর ৬ আসামি সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁন, নাসির উদ্দিন নুর, ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক কমিশনার মাসুদুর রহমানের বাসায় শুক্রবার অভিযান চালানো হয়। এসময় মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির বাসার ভারাটিয়ার ঘর থেকে একটি ফ্রিজ, বেশ কিছু কাপড় জব্দ করা হয়।
এর আগে সোমবার (১৬ মে) বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া ফারুক হত্যা মামলার পলাতক ১০ আসামির মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন।
ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা ও তার ছোট ভাই বাপ্পা তাদের কলেজপাড়া বাসভবনের কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনিছুল ইসলামের মাধ্যমে ফারুক আহমদকে ডেকে আনান। সেখানে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাপ্পা। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এক পর্যায়ে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে ফেরার পথে সাংসদের অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন পিস্তল দিয়ে ফারুক আহমদকে গুলি করেন। এরপর সংসদ সদস্য আমানুরের নির্দেশে আনিছুল, মোহাম্মদ আলী, আবদুল হক, সমীর ও কবীর তার মৃতদেহ তার বাসার সামনে ফেলে আসেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় নারী ও অস্ত্রসহ এমপিপুত্র আটক
/এআর /এএইচ/








