সুদৃশ্য ফল লটকন একসময় তেমন জনপ্রিয় না হলেও এখন নরসিংদীর কৃষকদের সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রায় দুই যুগ আগেও জেলার লালমাটির আধিক্যযুক্ত শিবপুর ও বেলাব উপজেলার গ্রামগুলোর ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠতো এই ফলের গাছ। এখন সেসব গ্রামে মাঠের পর মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করা হচ্ছে এই ফল। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও কদর বেড়েছে এই ফলের। মৌসুমী এই ফল চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
দুই যুগ আগে কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনায় লটকন গাছ দেখা গেলেও বাজারে এই ফলের চাহিদা না থাকায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের কথা ভাবতেন না কেউ। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাজারে খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফলের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে লটকনের ন্যায্যমূল্য। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে নরসিংদীর সুস্বাদু ফল লটকন। প্রতি বছরই লটকন চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এলাকার কৃষক ও বেকার যুবকদের মধ্যে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর, বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলার লাল রংয়ের উচু মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এই এলাকার মাটি লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিগত বছর জেলার ৫৮১ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৫ হেক্টরে। বাণিজ্যিক চাষাবাদের আওতার বাইরেও বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে লটকন গাছ রয়েছে যা কৃষি বিভাগের হিসাবের অর্ন্তভুক্ত করা নেই।
গাছের গোড়া থেকে প্রধান কাণ্ডগুলোতে ঝোঁপায় ঝোঁপায় লটকন ধরে। চলতি বছর ফলন ভালো হওয়া ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় খুশি লটকন চাষিরা। মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে নরসিংদীর মরজাল ও শিবপুর বাজারে গড়ে উঠেছে লটকনের বৃহৎ বাজার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ক্রেতারা এসে এই দুটি বাজার থেকে লটকন কিনে নিয়ে যান।
বেলাব উপজেলার আব্দুল্লাহ নগর গ্রামের লটকন চাষি নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাচ্চু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উপযোগী আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দামটাও আশানুরূপ পাচ্ছি। চর উজিলাব গ্রামের লটকন চাষি আব্দুল বাতেন ভুঁইয়া বলেন, পাইকারি বাজারে মানভেদে প্রতি মণ লটকন আড়াই থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
একই উপজেলার রাজারবাগ গ্রামের মো. সবুজ মিয়া বলেন, সাধারণত একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি লটকন বাগান লাখ টাকা বিক্রি করা যায়। নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের, উপ-পরিচালক, মো. লতাফত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লটকনে রোগ বালাইয়ের তেমন সংক্রমণ না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ও ফলনও ভালো। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রফতানি হওয়ায় লটকনের ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে নরসিংদীতে প্রতিদিনই লটকন চাষের প্রসার ঘটছে।
আরও পড়ুন:
এবার পাবনায় আশ্রমের সেবককে কুপিয়ে হত্যা
/জেবি/এইচকে/








