গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজারে আধা কিলোমিটার সড়কের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। জৈনা বাজার-কাওরাইদ সড়কের জৈনা বাজার থেকে আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজ এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি এখন পায়ে হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সাধারণ মানুষ ছাড়াও দুটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি প্রাইভেট স্কুল ও কমপক্ষে পাঁচটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।
জৈনা বাজারের দন্ত চিকিৎসকের সহকারী কামরুজ্জামান খোকন বলেন, গত এপ্রিল থেকে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে সড়কে।
আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফরহাদ মাহমুদ তালুকদার বলেন, বিপদে না পড়লে এ রাস্তা দিয়ে কেউ হাঁটেন না।
একই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ভাল কাপড় পড়ে বাড়ি থেকে বের হই। কিন্তু, কলেজে পৌঁছার আগেই কাপড় ময়লা হয়ে যায়।
নান্দিয়াসাঙ্গুন গ্রামের মৌসুমী ব্যবসায়ী মীর রোকন উদ্দিন প্রায়ই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, জৈনা বাজারের রাস্তাটুকুর জন্য অটোরিকশা স্ট্যান্ড এখন কলেজের সামনে চলে এসেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে স্ট্যান্ডে যেতে হয় পায়ে হেঁটে। বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকানের বারান্দার ওপর দিয়ে। রাস্তায় পানি ও কাদা জমে থাকায় কোনও রিকশা যেতে চায় না।
গোলাঘাট এলাকার যাত্রী রাশিদা বেগম জানান, হাফ কিলোমিটার দূরের এই অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে আসতে হয়েছে। সময় লেগেছে দ্বিগুণেরও বেশি। আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।
অটোরিকশা চালক আল মামুন ও কামরুজ্জামান বলেন,এক মাস আগেও কাদা পানির ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়েছি। দুই মাসে গাড়ির অধিকাংশ পার্টস পরিবর্তন করতে হয়েছে। আর গাড়ির ক্ষতি করতে চাই না। ভাড়া বাড়িয়েও ক্ষতি পোষাতে পারছি না।
আউয়াল ডিগ্রি কলেজপাড়ার বাসিন্দা হাজি মমতাজ উদ্দিন বলেন, রাস্তা দিয়ে দুটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি প্রাইভেট স্কুল ও কমপক্ষে পাঁচটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। তাছাড়া দাদা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিবিএস ক্যাবল, সাদ সান পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। রাস্তার কারণে আমাদের দুর্ভোগ এখন চরমে।
তেলিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, উপজেলা সমন্বয় পরিষদের সভায় রাস্তার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন বলেন, রাস্তা মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অচিরেই রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে।
/জেবি/টিএন/আপ-এসটি
আরও পড়ুন: ঈদের লম্বা ছুটিতে প্রস্তুত পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার








