নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘বাংলা ডকইয়ার্ড’ নামে একটি বেসরকারি বাল্কহেড মেরামত ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই সময়ে ৯ বছরের এক শিশু গুলিবিদ্ধসহ আরো ৪জন আহত হয়েছে। ওই সময়ে ডকইয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন বাংলা ডকইয়ার্ডের মালিক হাজী আবুল কালাম বাসু জানান, বন্দর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ তার কাছে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এর আগে কয়েকবার ডকইয়ার্ডে হামলা চালায় খান মাসুদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খান মাসুদের নেতৃত্বে ডকইয়ার্ডে আবারও হামলা চালানো হয়। তালা ভেঙে ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করে বাসুকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা মোস্তফা (২৩), হোসেন (২৫) মাসুদ (২৪), নাদিম (২২) নামের চার শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করে।
বাসুর দাবি, পরে অফিসের তালা ভেঙ্গে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করে হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তখন সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলে স্টাডি কিন্ডার গার্টেনের সামনে মাসুম মিয়া নামের ৯ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। মাসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাসুম একরামপুর এলাকার মাছ বিক্রেতা হাবিবুর রহমানের ছেলে। সে ব্র্যাক স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
হামলায় ডকইয়ার্ডের মালিক ও বাংলাদেশ হকার্সলীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আবুল কালাম বাসুসহ নামে ৪ জন আহত হয়।
এদিকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে খান মাসুদ জানান, আবুল কালাম বাসু ডকইয়ার্ডটি জোর করে দখল করে রেখেছেন। আমি হামলা করিনি, বরং পাওনা টাকার জন্য বাসুর সঙ্গে শ্রমিকদের সংর্ঘষ হয়েছে। আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ সত্য নয়।
বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হানিফ ও জাহাঙ্গীর নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
/এইচকে/
আরও পড়ুন:বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় পল্লী চিকিৎসক গুরুতর আহত








