প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেও যানজটের নিরসন হয়নি। কারণ মহাসড়ক চারলেন হলেও, সেতুতে দুই লেন হওয়ায় যানবাহনগুলো সেতু মুখে এসে আটকে যাচ্ছে বলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
এই প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ায় পর যানজট লাঘবের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা করা হয়।পাশাপাশি স্বল্প সময়ে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি আমদানি-রফতানি পরিবহন সহজতর এবং সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হয়।কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কের উপর যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। কারণ মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী এই তিনটি সেতু বাড়তি যানবাহনের চাপ মোকাবিলা করতে পারছে না। বিশেষ করে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে প্রায় প্রতিদিনই যানজট লেগে আছে। সেতুর টোল বুথে এক সঙ্গে ছয়টি গাড়ি টোল দিতে পারে। কিন্তু চার লেনের সড়ক দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি এসে সেতুর মুখে আটকে যায় কারণ সেতুতে দুই লেন। তাই গাড়িগুলো এক লাইন ধরে সেতুতে উঠে। এই কারণে মেঘনা ও গোমতী সেতুর মুখে সারা বছরই যানজট লেগে থাকে এবং এই যানজট কখনও কখনও আট থেকে দশ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এই মহাসড়ক প্রায়ই ব্যবহার করেন এমন যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতু দুটির বিকল্প ব্যবস্থা না করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করে তেমন লাভ হবে না। ভোগান্তি থেকেই যাবে।
যাত্রীবাহী বাসের চালক জাহিদ জানান, সেতু দুটি পুরাতন ও সরু। কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। তাই চাইলেই সেতুর উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় না। কাজেই বিকল্প সেতু ব্যবহার ছাড়া চার লেনের রাস্তা পুরোপুরি কাজে আসবে না।
ভবের চর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস আই কামরুজ্জামান রাজ জানান, এই মহাসড়কে প্রতি মিনিটে ৬০টির বেশি যান চলে। তাহলে অনুমান করুন প্রতিদিন কয়টি যান চলে। তাই চার লেনে উন্নীত করলেও নতুন সেতুর অভাবে এই এলাকায় যানজট লেগে থাকবে। শুধু ঈদের সময় নয়, এখানে সারা বছরই যানজট থাকে।
তিনি আরও বলেন, পণ্যবাহী গাড়ি প্রায়ই অতিরিক্ত মাল বোঝাই করে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে সেতুর উপর বিকল হয়ে যায়। তখন যানজটের ভয়াবহতা তীব্র আকার ধারণ করে। আমরা এখানে যারা দায়িত্ব পালন করছি তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি যানজট নিরসনের জন্য।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সিটিগেট পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার অংশকে চারলেনে প্রশস্ত করা হয়েছে । ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর অংশ ৮ লেনে উন্নীত করা হয়েছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : গুলশান হামলা: শ্রীলঙ্কার দুই নাগরিক জীবিত উদ্ধার








