পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির টুপি তৈরির কারিগররা। আর এই টুপির কাজ করেই স্বাবলম্বী হয়েছে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গাড়াকোলা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন রাজবাড়ীর টুপি রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যোর একাধিক দেশে।
টুপি কারিগররা জানায়, শুধু ঈদের সময় নয়, সারা বছর ধরে এই টুপি তৈরিতে ব্যস্ত থাকে কারিগররা। এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারের অসহায় নারী গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে বাড়তি উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
টুপি তৈরির কারিগর মোছা. কহিনুর বেগম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩টি টুপি তৈরি করতে পারি। প্রতিটি টুপির মজুরি হিসেবে ৩৫ টাকা পাই। এই মজুরিতে আমাদের চলতে খুব কষ্ট হয়। তবে সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি সেলাই করে সংসারের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।
বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী সাদিয়া আফরীন বলেন,পরিবারের পক্ষ থেকে লেখাপড়া ও প্রাইভেটের টাকা যোগাড় করা সম্ভব না। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে বসেই সেলাই মেশিনে টুপি সেলাই করে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছি। সরকারিভাবে যদি আমাদের মতো নারীদেরকে উন্নত সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাবস্থা করে দেয় তাহলে গ্রামের নারীরা সংসারে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতে পারবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, গাড়াকোলা গ্রামের নারীদের নিখুঁত কারুকার্যে গড়া টুপিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে রফতানি হচ্ছে সৌদি আরব,ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। মধ্যপ্রাচ্যোর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের এ টুপির যথেষ্ঠ কদর রয়েছে। সেই সঙ্গে অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রাও। তবে অসহায় এসব নারীরা যদি সরকারি সহযোগিতায় সেলাই মেশিন ও ক্ষুদ্র ঋণ পায় তাহলে তারা আরও পরিশ্রম করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ২
/এআর/টিএন/








