গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাঠের পোল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ফলে বুধবার সকাল থেকে ওই খালে খেয়া নৌকায় পারাপার শুরু হয়েছে।
জানা যায়,কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝার সঙ্গে কলাবাড়ী রাধাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বাঁশের সাকো দেওয়া নিয়ে বিরোধ হয়। মঙ্গলবার বিকেলে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জ বাজারে কাঠের পোল ভেঙে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হতে না পেরে চেয়ারম্যান এ কাজ করেছেন।
জানা যায়,স্কুলের শিক্ষার্থীসহ কলাবাড়ী,হিজলবাড়ী,রামনগর,বুরুয়া,কদমবাড়ী,মাছপাড়া ও তেতুলবাড়ী গ্রামের মানুষ জন প্রতি দুই টাকা দিয়ে খেয়া নৌকায় খাল পার হচ্ছেন।
ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়,কালিগঞ্জ-কলাবাড়ী সড়ক দিয়ে তারা স্কুলে যাতায়াত করে।কালিগঞ্জ বাজারে আসার পর তারা ইউনিয়ন পরিষদের কাঠের পোলটি হয়ে একটি সাঁকো দিয়ে স্কুলে আসে।স্কুলের পাশে মঙ্গল চন্দ্র বাড়ৈ নামের এক ব্যাক্তির বাড়ির সাঁকো দিয়ে আসে। কিন্তু ওই সাঁকোর মালিক তাদের যাতায়াত করতে নিষেধ করেন।এরপর চেয়ারম্যানের দেওয়া অপর একটি সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে ১ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়।এ কারণে আমরা স্কুল সোজা বাঁশের সাঁকো দেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়।মঙ্গলবার এ সাঁকোর কাজ শুরু করলে চেয়ারম্যানের লোকজন বাঁধা দেয়।এসময় তারা শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।পরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই স্থান ঘেরাও করে।তারপর শ্রমিকরা বাঁশের সাঁকোর কাজ শেষ করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক ভবেন রায়সহ অন্যান্যরা স্কুলে এসে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত কালিগঞ্জ বাজারের কাঠের পোল ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। মঙ্গলবার বিকেলে তারা এ কাঠেরপোল ভেঙে দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। এখন ভেঙে দেওয়া পোলের খাল আমাদের নৌকায় পার হতে হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
কলাবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মণি মোহন বল্লভ বলেন,চেয়ারম্যান স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন।গত নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে পরাজিত হন।এতে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের উপর অখুশি হয়ে এ কাজ করেছেন।
কলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ প্রসাদ মজুমদার বলেন,চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা গায়ের জোরে মানুষের চলাচলের কাঠের পোল ভেঙে দিয়েছেন। এখন সেখানে মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছে। মানুষ সময় ও টাকা ব্যয় করে যাতায়াত করছেন। ওই রাস্তা দিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।চলাচলে তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
কলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,গত কয়েক দিন আগে পোলের নিচ দিয়ে ট্রলার যাওয়ার সময় ধাক্কায় পোলটি ভেঙে যায়। সেখানে বাঁশ ফেলে ঝুকিপূর্ণ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।এ কারণে আমরা পোলটি বন্ধ করে দিয়েছি। দ্রুত পোলটি সংস্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর জোর করে আমাকে স্কুলের সভাপতি করা হয়েছিল।এবার আমি নিজেই সভাপতি পদ ছেড়ে অন্যদের নির্বাচিত করেছি। প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
/এমডিপি/








