
কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ রুটে ঘাট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের অব্যস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানীমুখী লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ রুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরির মধ্যে দুটি নষ্ট থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে পারাপারের অপেক্ষায় ৫০০ বেশি যানবাহন। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মে মেনেই যানবাহন পারাপার করছেন তারা। পুলিশের দাবি, সর্বত্রই তাদের নজরদারি রয়েছে।
নদী পারাপারে দুর্ভোগ ছাড়াও যানবাহনগুলো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ঈদ শেষে কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ-রুট হয়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে সমস্যা হওয়ায় গত দুদিন ধরে ভিড় ও যানজট লেগে আছে কাওড়াকান্দি ঘাটে। শিবচরের বন্দরখোলা থেকে ঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পথ পার হতেই বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের যাত্রীদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভিআইপিদের গাড়ি পারাপারের নামে সিরিয়াল না মেনে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ছোট-বড় যানবাহনকে কৌশলে ফেরিতে উঠিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে যানজট বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অনেকেই এই ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ঘাটে যেতে দেখা গেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছে।

বরিশালের গৌরনদীর থেকে আসা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয়। শুনেছি প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু কোথায় তাদের নজরদারি চোখে পড়েনি।’
খুলনার থেকে আসা একটি বাসের চালক কামরুল শেখ বলেন, ‘যারা প্রশাসনকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারছে তাদের গাড়িগুলো পুলিশ আগে ছেড়ে দিচ্ছে। ঈদের সময় ঘাটে দু’দিনও আটকা থাকতে হয়েছে।’
ফরিদপুরের বাসিন্দা বেলাল শিকদার বলেন, ‘শিবচরের বন্দরখোলা থেকে ৫ কিলোমটার রাস্তা আসতে সময় লাগছে ১২ ঘণ্টারও বেশি। এ ভোগান্তির একমাত্র কারণ ঘাট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই।’
বিআইডব্লিউটিসি’র কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট (টিএস) রুহুল আমিন বলেন, ‘যানজটের কারণে ফেরিতে গাড়ি উঠানামায় বিঘ্ন ঘটলেও স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি যানবাহান পারাপার করা হচ্ছে।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, প্রতি ঈদে এই নৌরুট দিয়ে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। যানজট নিরসনসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কামালউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পরিবহন শ্রমিকদের কারণে চাইলেও অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কয়েকদিন আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে গাড়ি চালকরা বাস বাকা করে সড়কের ওপর রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।
আরও পড়ুন: নদীগর্ভে সংযোগ সড়ক, বিপর্যস্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস
/এসটি/








