টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিস্ফোরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের জন্য স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্য নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। সোমবার বিকালে টঙ্গীতে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে তাদের পরিবারের কাছে এ অর্থ দান করা হয়।
গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হতাহতদের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হলেও নিখাঁজদের পরিবারের লোকজন কোনও সহায়তা পাচ্ছিলেন না। তাই মানবিক কারণে প্রাথমিকভাবে তার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নিখোঁজ ১১ জনের মধ্যে সোমবার উপস্থিত ১০ জনের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার জেলা প্রশাসক এসএম আলম নিহত ১৯ জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে এবং আহত ১২ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ২০ জন এবং আহত মোট ২৫ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, মামুন শিবলী, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক এসএম আলম বলেন, হতাহতের মধ্যে যারা এখনও লাশ পাননি তাদেরকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জেলা প্রশাসনেকে দেখাতে হবে।
এদিকে এখনও টাম্পাকোর ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও উদ্ধার কাজ চলছে। আরও যদি মৃতদেহ পাওয়া যায় তাদের স্বজনদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে এখনও ৬টি অজ্ঞাত মৃতদেহ রয়েছে। এ মৃতদেহগুলো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের এনডিসি মামুন শিবলী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর টাম্পাকো কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, ৩৫ জন আহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে নিহত ৩৪ জনের মধ্যে একজনের স্বজনকে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ৩৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
/এআর/








