গোপালগঞ্জে নয়ন শেখ (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহতের বাবা আব্দুল আলী তার ছেলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। অন্যদিকে,নয়নের পক্ষের লোকজনের নামে নিহতের ভাই তামিম শেখ আরেকটি মামলা করেছেন।
গত ৪ আগস্ট রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চরবড়ফা গ্রামে নয়ন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নয়ন জালালাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মিনার সমর্থক ছিলেন।
এ ঘটনায় ৬ আগস্ট নয়নের বাবা আব্দুল আলী বাদী হয়ে শেখ মজিবর রহমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আলীম মোল্লাসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি ডিবিতে নেওয়া হয়। ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় হবি শেখ ও রিকু মোল্লাকে গ্রেফতার করে। এর কিছুদিন পর বাদী মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) নিয়ে যান।
এদিকে, একই ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর নিহত নয়ন শেখের ভাই তামিম শেখ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে মজিবর রহমান মিনা,তরু মিনাসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে একটি পিটিশন দায়ের করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ সাতদিনের মধ্যে পিটিশনটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নয়নের বাবা আব্দুল আলী শেখের দায়ের করা মামলায় নয়নের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।
নিহত নয়নের ভাই তামিম শেখ মামলার বিবরণে বলেছে, তার ভাই নয়ন শেখ সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মিনার সমর্থক ছিল। দলে মধ্যে নয়নকে নিয়ে কোন্দল চলছিল। গত ৪ আগস্ট রাত ১০ দিকে মজিবরের সমর্থক হবি শেখ তাদের বাড়ি থেকে নয়নকে ডেকে নিয়ে যান। পরদিন নয়নের লাশ উদ্ধার করা হয়। ডিবি হবি শেখকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়। হবি ডিবির কাছে এ হত্যাকাণ্ডের মৌখিক তথ্য দিয়েছে। তামিমের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় সে আদালতে একটি পিটিশন করে। এ পিটিশনে মজিবরকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ আলীম মোল্লা ও তার সমর্থকদের ফাঁসাতে তার বাবা আব্দুল আলী শেখকে দিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি ওই পিটিশনে উল্লেখ করেন।
মামলার আসামি আলীম মোল্লা বলেন, ‘জালালাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মিনার দলের মধ্যে কোন্দলকে কেন্দ্র করে নয়নকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ হিসেবে আমাদের আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া আমার দলের ১১ সমর্থকের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ওই বাড়িঘরগুলোতে শিশু ও মহিলাদের উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। বাদী মামলার তদন্ত সংস্থা গত দেড় মাসে তিনবার পরিবর্তন করেছেন। এ কারণে তদন্তকারী সংস্থা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না। নয়নের স্ত্রী মামলার বাদী হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে। আমাদের ঘায়েল করতেই বাদী পক্ষ বারবার কৌশল পরিবর্তন করছে।’
নয়নের পিতা আব্দুল আলী শেখ বার বার তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নয়নকে হত্যার পর যারা পলাতক ছিল সন্দেহজনকভাবে তাদেরই আসামি করা হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করুক। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমার দায়ের করা মামলাই চলবে।’
এদিকে, নয়নের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় তাকে বাদ দিয়ে আমি বাদী হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছি। আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।’
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আদালতের আদেশ আমাদের হাতে এসেছে। এ নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে আমরা মামলা দায়ের করব। পরে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
নয়নের বাবা আব্দুল আলী শেখের দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ পিবিআইর এসআই এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছি। শুনেছি এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। এটি হাস্যকর মনে হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
বগুড়ায় সীমান্তপথে ঢুকছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা
/বিটি/








