টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েল কারখানার দুর্ঘটনা অধিকতর তদন্তের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে কর্মরত চারটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার মেয়াদ আরও সাতদিন বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার দিনই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে এ কমিটি আরও সাত দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করে।
জেলা প্রশাসক এস এম আলম জানান, দুর্ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে। তদন্ত কমিটিগুলির মেয়াদ আরও সাতদিন বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টে আরও অভিজ্ঞ লোক নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বড় ধরনের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দু’একদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হবে।
এদিকে, ১৪ তম দিনেও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে যাওয়া ভবনের বর্জ্যগুলো অন্যত্র সরাচ্ছে।
টঙ্গীর বিসিক নগরীতে বিএনপির সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন ট্যাস্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানার বিশাল ভবনের অধিকাংশ ধসে বিশাল ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়। এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ জন আহত ও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ২৮ জন এবং ছয়জনের পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পরিচয় শনাক্তের জন্য অজ্ঞাত ছয়টি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত ছয় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের সিআইডি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে নিখোঁজ ১১ জনের স্বজনদের মধ্যে ৯ জনের স্বজনরা বুধবার তাদের লালা ও রক্ত দিয়েছেন। বাকি দুইজনের স্বজনরা আগামী রবিবার তাদের নমুনা দেবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
/বিটি/








