শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নরসিংদীতে তৈরি প্রতিমা সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
নরসিংদীর তুর্জয় প্রতিমা শিল্পালয়ের মালিক শ্রী দুলাল পাল বলেন, ‘বাঁশ, কাঠ, খড়, লোহা, রশি, মাটি, রংসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আগের মতো লাভ হয় না। তবুও বাপ-দাদার পেশা হিসেবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’
নিউ শরীয়তপুর ভাস্কার্যালয়ের মালিক প্রতিমা শিল্পী গৌতম কুমার পাল বলেন, ‘রং তুলির আঁচড়ে প্রতিটি প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার কাজ চলছে। অর্ডার অনুযায়ী সময় মতো প্রতিমা সরবরাহের জন্য দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। তবে নানা কারণে প্রতিমা তৈরিতে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।’
এদিকে পূজা উদযপান পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় ৩১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজনকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। যা গত বছরের চেয়ে ১৬টি বেশি। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে দিনরাত কাজ করছেন কারিগররা। এখন চলছে রংয়ের প্রলেপ ও অঙ্গ সজ্জা। শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে প্রতিমাগুলো। মনের মাধুরী মিশিয়ে রং তুলির আঁচড়ে মা দুর্গাকে সাজাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার ব্যাপক আয়োজন।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপ এলাকায় কোনও প্রকার সমস্যা আছে কিনা সেসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক দেশের সব মানুষ এক অভিন্ন হিসেবেই এই উৎসব পালন করবো।’
অন্যদিকে, এ বছর জঙ্গি তৎপরতার কথা বিবেচনায় রেখে শারদীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলো মাথায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। থাকবে স্বেচ্ছাসেবকরাও। তবে পূজার দর্শনার্থীরা যাতে অতিরিক্ত কোনও জিনিসপত্র, বিশেষ করে ব্যাগ বহন না করেন সে বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে।
আরও পড়ুন:
/বিটি/








