কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে মনোনিত আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরিবর্তনের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল চলছে। হরতালে পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রয়েছে দোকানপাটসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিকে, হরতাল চলাকালে সকাল থেকে মেয়র পদে তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনের সড়কে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা রামদা, বল্লম, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র বহন করে। এ সময় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে মোতায়েম হোসেন স্বপনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় নির্বাচন অফিসসহ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
হরতালের মধ্যেই দুপুর ১টার দিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র জালাল উদ্দিন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আধা ঘণ্টা পর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালিত হচ্ছে।
আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনে পাকুন্দিয়া উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতা-কর্মীদের ভোটে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে ভোট হয়। পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইচ্ছুক স্থানীয় ছয় নেতা নির্বাচনে অংশ নেন। তার মধ্যে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন সর্বাধিক ভোট পেয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে ওই মনোনয়ন পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ মনোনয়ন পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
/বিটি/








