মানিকগঞ্জের শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার যমুনা ও পদ্মা নদীতে গত ছয় দিনে মা ইলিশ ধরার অভিযোগে ৫৩ জেলেকে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এদেরকে জেল-জরিমানাও করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে হাজার-হাজার মিটার কারেন্ট জাল। কিন্তু জেল-জরিমানার পরও সেখানে মা ইলিশ শিকার চলছে।
দৌলতপুরের চর কাটারি এলাকা থেকে হরিরামপুরের মালুচী পর্যন্ত যমুনা ও পদ্মার ৪৫ কিলোমিটার এলাকা এবার মা ইলিশ প্রজননের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আটককৃত ৫৩ জেলের মধ্যে হরিরামপুরের পদ্মা নদী থেকে আটক করা হয়েছে ২৪ জনকে। এদের সবাইকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবিনা ফেরদৌস। তিনি জানান, জেল-জরিমানার পরও থামানো যাচ্ছে না ইলিশ ধরার প্রবণতা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নুরতাজুল হক জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বছরের অন্যান্য সময় মৎস্য বিভাগে নিবন্ধিত জেলেদের চাল দেওয়া হলেও নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, যমুনা নদী থেকে ইলিশ ধরার সময় আটক ১৬ জনের ১৪ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই জনকে জরিমানাও করা হয়েছে।
মৎস বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় মৎস্য বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। এর মধ্যে দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুরের যমুনা ও পদ্মা নদী তীরবর্তী দুই হাজার ৩৩৬ জেলেকে সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে নদীতীরবর্তী জেলেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের কোনও সহায়তা দেওয়া হয়নি।
/এআরএল/
আরও পড়ুন:








