গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলের প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. সামছুল আলম বাদী হয়ে গত সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় জিসিসি’র তৎকালীন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, এমএ মান্নান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে করপোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার ১৩২ টাকা আয় দেখানো হয়। মান্নান ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলের আয় কোনও ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ক্যাশ ইন হ্যান্ড’ হিসেবে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়ার কাছে সংরক্ষিত রাখেন। এর মধ্যে ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৬ টাকা খরচ দেখানো হয়। এই খরচের মধ্যে ৪৯ লাখ এক হাজার ৮৪৮ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভূয়া গ্রহীতা দেখিয়ে ৯৯৯টি ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার প্রমাণ পায় দুদক। জিসিসি মেয়র মান্নান এবং হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া পরস্পর যোগসাজশে অনুদান এবং ব্যয় দেখিয়ে উক্ত পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ অপরাধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল রাতে গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার পৃথক তিনটি ঘটনায় জড়িত থাকায় অধ্যাপক এমএ মান্নানকে ওই রাতে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ তিনটি ঘটনায় মান্নানকে প্রধান আসামি করে জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রীবাহীবাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলায় ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএস’র নিজ বাসা থেকে মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর গত ২ মার্চ তিনি জামিনে কারামুক্ত হন। জয়দেবপুর থানার একটি ফৌজদারি মামলায় মান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র ২০১৫ সালের ১২ মে গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে গৃহীত হওয়ায় ওই বছরের ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে মেয়র পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এমএ মান্নান গত ৩১ মার্চ মেয়র পদ থেকে তাকে সাময়িক বহিস্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। মেয়র মান্নানকে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত ১১ এপ্রিল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। পরে ১৩ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের আপিল করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখেন।
এরপর গত ১৯ এপ্রিল ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) এর ক্ষমতা বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মান্নানকে আবারও সাময়িক বরখাস্ত করে।
অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবর্তমানে গত বছরের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলাসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে নাশকতার দুই মামলাসহ তার বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া তিনটি অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে।
অধ্যাপক এম এ মান্নানের প্রধান আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান জানান, মান্নানকে এ পর্যন্ত মোট ২৭টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ২৬ মামলায় জামিন লাভ করেন।
/এআর/








