আশুলিয়ায় একটি ভবনের মালিক এবং সেখানে থাকা দুটি কারখানার মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় এক হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ভবন মালিকের করা মামলায় এরই মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকসহ দুই পোশাক কারখানার মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে কারখানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। তারা কারখানা দুটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
আটককৃতরা হলেন, এস-২১ কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিটিশ নাগরিক আরশাদ মাথিয়া এবং কে-২ ক্যাজুয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহমান উৎপল।
পুলিশ ও ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় মিসেস জেসমিন হাসানের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এস-২১ এবং চতুর্থ তলায় কে-২ ক্যাজুয়াল লিমিটেড নামে দুটি পোশাক কারখানা রয়েছে। প্রায় ৯ বছর যাবৎ ব্রিটিশ নাগরিক আরশাদ মাথিয়া ও বাংলাদেশি উৎপল ভবনের মালিক জেসমিনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কারখানা দুটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ ভবন সংস্কারের কথা বলে তারা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই কারখানা মালিক ও ভবন মালিকের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই ব্রিটিশ নাগরিক কারখানা পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী ভবন মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করেন। ভবন মালিকও কারখানার দুই মালিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিতে থাকেন। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে ভবনের মালিক জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে এসব ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের নেতৃত্বে একটি দল ওই কারখানা দুটিতে অভিযান চালিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকসহ দুজনকে আটক করে।
এ ঘটনার পরই আশুলিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভবনের মালিক জেসমিন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, পোশাক কারখানার দুই মালিক ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।কিন্তু ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে তারা ভাড়া দেওয়া নিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ভবনটি দখলের চেষ্টা করেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে ১১টিরও বেশি মামলা করে তাকে কোনঠাসা করার চেষ্টাও করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব কারণে তিনি নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
এদিকে, দুই কারখানা মালিককে গ্রেফতারের পর থেকেই ওই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। কারখানা মালিকরা জেলে থাকায় কারখানাটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে বলে জানান কারখানার একাধিক কর্মকর্তা। ফলে ওই কারখানার প্রায় এক হাজার শ্রমিকের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে এস-২১ কারখানার জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল রাব্বী বলেন, সাভারের রানা প্লাজার ভবন ধসের পর থেকে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা শুরু করে। ওইসময় শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি দল তাদের কারখানাটি পরিদর্শন করে কিছু ত্রুটি পায়। এ সময় ভবনের মালিককে বারবার ভবনটি মেরামত করতে বললেও তারা কোনও সাড়া দেননি। পরে কারখানার মালিক নিজ খরচে ভবনের ত্রুটিগুলো ঠিক করেন। পরে ভবনের মালিকের সঙ্গে এসব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তাদের কোনও সাড়া না পাওয়ায় ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন কারখানার দুই মালিক। আলোচনা করে বিষয়গুলো সমাধান শেষে ভাড়া নেওয়ার জন্য বললে ভবন মালিক জেসমিন তাদেরকে অন্যায়ভাবে চলে যাওয়ার জন্য বলে। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, ভবনের মালিক জেসমিন আক্তারের করা একটি মামলায় দুই কারখানা মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
/বিটি/








