নির্বাচনে অনীহা জনপ্রিয় নেতাদের

তানভীর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ
২১ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:২৫আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:৫৬

নির্বাচনে অনীহা জনপ্রিয় নেতাদের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তিন জনপ্রিয় নেতা অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেতাদের নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করাটা হবে দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে তারা রাজি নন।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নেতারা বলছে, যেহেতু সাবেক দুই এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচন করতে রাজি হননি, সেহেতু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নতুন প্রার্থীর পক্ষে সুবিধা করা কঠিন হবে। এ নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথাও তারা উল্লেখ করেন। তবে নেতারা প্রকাশ্যে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষেই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আগামী ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ তৃণমূলের পাঠানো তালিকা বাদ দিয়ে বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান বলয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার তাকেসহ আইভী এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগে যখন এতকিছু করছে তখন বিএনপি প্রার্থীই নির্ধারণ করতে পারেনি। খোদ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রথম পছন্দের প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। তবে রবিবার (২০ নভেম্বর) রাতের সভায় তিনি নির্বাচনে করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ওই রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র নেতাদের বৈঠক শেষে তৈমূর ওই অনীহার কারণ হিসেবে বলেন, ‘এ নির্বাচন কমিশন অর্থব। এ কমিশনের প্রতি কোনও ধরনের আস্থা নেই। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না জেনেই ভোটে থাকছি না।’

এর আগে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) চেয়ারপারসন নির্বাচন ইস্যুতে জেলার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখনও তৈমূর অনীহা প্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তিনবারের নির্বাচিত এমপি আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনও অনীহা প্রকাশ করেন। যদিও এর আগে আবুল কালাম বলেছিলেন, তিনি মেয়র পদের জন্য অযোগ্য না।

এদিকে কালাম, গিয়াসউদ্দিন ও তৈমূরের অনীহার কারণে এখানে জোরালো ও শক্ত কোনও প্রার্থী থাকছে না। এতে করে বিএনপি এখানে দুর্বল প্রার্থী দিলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে মনে করছেন অনেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০০৩ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় তখনই আমাদের প্রার্থীকে পরাজিত করে স্রোতের বিপরীতে সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্বাচিত হন। আর সম্প্রতি ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ক্ষমতাসীনদের দাপটে ভোটের দিন কোণঠাসা ছিল।

নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব নেতারা কথা বলেছেন যাতে চেয়ারপারসনের বিরাগভাজন না হন। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি নির্বাচন করবো না। তবে দল যদি ভোটে থাকে আর অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই কাজ করবো।’

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম  খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘দল যদি কাউকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবো।’

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ আবুল কালাম বলেন, ‘আসলে আমি এ রকম নির্বাচনে অভ্যস্ত নই। তাই আগ্রহী না। তাছাড়া এই নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আমাদের আস্থা নেই। এ ছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এই নির্বাচনে টেস্ট ড্রাইভ দিচ্ছি।’

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘এটা গণতন্ত্র হত্যাকারীদের প্রতীক নৌকার বিপক্ষে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীকের নির্বাচন। দক্ষ তরুণ প্রার্থী দিলে নারায়ণগঞ্জ থেকেই গণতন্ত্র হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পরিবর্তন শুরু হবে দলের জয় দিয়ে।’

এদিকে, তিন হেভিওয়েট নেতা নির্বাচন না করলেও বেশ আগ্রহী দুজন যাদেরকে সোমবার রাতে গুলশানের অফিসে ডেকেছেন খালেদা জিয়া। ওই দুজন হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল। তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান সাত খুনের পর আন্দোলন করতে গিয়ে আলোচনায় আসেন। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের নামধারী নেতা ও সাত খুনের ঘটনার আসামিদের চাপ ও হুমকির শিকার হন। তিনি ২০০৯ সালে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আলাদা করে পাল্টা বিএনপির কমিটি গঠন করেন। এ নিয়ে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়। তখন বিদ্রোহী কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন সাখাওয়াত আর মূল ধারার নির্বাচিত সেক্রেটারি ছিলেন এটিএম কামাল।

অন্যদিকে, এটিএম কামাল বিগত বিএনপি সরকারের শেষের দিকে বিএনপি ত্যাগ করে বিকল্প ধারা ও এলডিপিতে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতা বনে যান। তবে ওয়ান ইলেভেনের পর খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি করে টানা ১১দিন অনশন করে আবারও বিএনপিতে ফিরে আসেন। সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কামাল এখন পর্যন্ত ৪০টির মতো মামলার আসামি হয়ে অনেক মাস কারাভোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে এটিএম কামাল বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে দলের জন্য ত্যাগ ও কর্মকাণ্ডের কারণে তো মনোনয়ন প্রত্যাশা করতেই পারি। আমি আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবেন। তবে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করবো।’

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ নির্বাচনকে আমরা এসিড টেস্ট হিসেবে এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। দল ও নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।’

 

/বিটি/এসটি/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম