বোন হত্যার বিচার চাইলেন নাটোরের মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক। আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বোন হত্যার বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ নভেম্বর বিকালে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ঢুলিয়া গ্রামে আমার বোন বাখেলা বেগমকে তার প্রতিবেশী সুরমান আলী মণ্ডল, তার মেয়ে শুকতারা বেগম ও জামাতা শহিদুল ইসলাম পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়ির উঠানে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় আমরা তিন হত্যাকারীর নাম উল্লেখ করে মামলা করতে গেলে পুলিশ সে মামলা নেয়নি। প্রধান অভিযুক্ত সুরমান আলী মণ্ডলের বড় ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী বিরাজ উদ্দিন মণ্ডল ওরফে সাজদারকে আসামি করে পুলিশ একটি মামলা গ্রহণ করেছে। আমরা প্রকৃত হত্যাকারীদের মামলায় আসামির তালিকাভুক্ত করে ন্যায় বিচার দাবি করছি।
গৃহবধূ বাখেলা বেগমের ভাবী প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আমার সামনে সুরমান আলী মণ্ডল, তার মেয়ে শুকতারা বেগম ও জামাতা শহিদুল ইসলাম হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে ননদকে হত্যা করেছে। এখন তাদের বাঁচাতে পুলিশ নিরপরাধ ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী বিরাজ উদ্দিন মণ্ডল ওরফে সাজদারকে মামলায় আসামি করেছে।
মামলার বাদী মো. মজির উদ্দিন মণ্ডল বলেন,‘মানসিক প্রতিবন্ধী বিরাজ উদ্দিন মণ্ডল ওরফে সাজদারের ১২ বিঘা জমি রয়েছে। এ জমি আত্মসাৎ করতেই তাকে আসামি করা হয়েছে। সাজদারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। প্রকৃত খুনীদের এ মামলায় আসামিভুক্ত করে চার্জশিট দাখিলের দাবি জানাচ্ছি।’
বাড়ইগ্রাম থানার ওসি মো. শাহরিয়ার খান বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে বাখেলা বেগমের বাড়ির উঠানেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনস্থলে বিরাজ উদ্দিন মণ্ডল ওরফে সাজদারের স্যান্ডেল পড়েছিল। ঘটনা ঘটার পরপরই স্থানীয় শত শত মানুষ তাকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। বাদীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বিরাজ উদ্দিন মণ্ডল ওরফে সাজদারকে আসামি করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর কেউ এ সম্পর্কে মুখ খোলেননি। এখন মামলার তদন্ত কাজ চলছে। বাদী অন্য যাদের নাম বলছেন তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীরা এ ঘটনা থেকে নিষ্কৃতি পাবে না বলেও মন্তব্য করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
/বিটি/








