মা বাড়িতে একা থাকেন। তাই ঢাকার ভাড়া বাসা ছেড়ে স্ত্রী, সন্তান ও আসবাবপত্র নিয়ে পিকআপ ভ্যানে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন হাসিবুর রহমান মোল্লা। মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই বাড়ি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্ত্রী রুবিয়া বেগম (৩৫) ও ছোট ছেলে রিফাত (৫)। আর হাসিবুর রহমান আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হাসিবুরের বাম হাত কেটে বাদ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
হাসিবুরের ভাই ঢাকার সিএমএসডি মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার তেজগাঁও এলাকায়র কানিজ গার্মেন্টসে সুপার ভাইজারের চাকরি করতেন হাসিবুর। ২০০৫ সালে বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তেজকুনি পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বাবার মৃত্যুর পর মা গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার হরিদাসপুর পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে একা থাকেন। তাই শফিকুল সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে মায়ের কাছে রাখবেন। এ জন্য শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একটি পিকআপ ভানে করে বাসার আসবপত্রসহ স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। শনিবার ভোরে পিকআপটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের বিজয়পাশা নামক স্থানে পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রড বোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই রুবিয়া ও রিফাতের মৃত্যু হয়। হাসিবকে আশজঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠোনো হয়েছে।
হাসিবুর রহমানের স্ত্রী রুবিয়ার বাবার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। এ ঘটনায় হাসিবুরের পরিবার ও রুবিয়ার বাবার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
শনিবার মাগরিবের পর জানাজা শেষে হরিদাসপুর পশ্চিমপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহতদের।
/বিটি/








