সিংগাইরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পৌর কমিশনারের মারধরে আহত আইয়ুব আলী প্রায় দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। রবিবার সন্ধ্যায় মারা যান আইয়ুব আলী। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সিংগাইর থানা পুলিশ।
এঘটনায় সিংগাইর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কমিশনার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। সিংগাইর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে জমি নিয়ে সিংগাইর পৌর এলাকার শহিদুল ইসলাম ডালিমের সঙ্গে কামাল হোসেনের বিরোধ চলছিল। ডালিমকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন আইয়ুব আলী। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন কামাল হোসেন। গত মাসের ১৮ তারিখে সিংগাইরের গোলড়া এলাকায় দলবল নিয়ে কামাল হোসেন হামলা চালায় আইয়ুব আলী ও ডালিমের ওপর। ডালিম দৌড়ে পালিয়ে বাঁচলেও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন আইয়ুব আলী। তাকে ভর্তি করা হয় সিংগাইর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
অবস্থার অবণতি হলে আইয়ুবকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও আঘাতপ্রাপ্ত দুই পায়ে পচন ধরে। চিকিৎসা খরচ যোগাড় করতে না পারায় এক পর্যায়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। গত রবিবার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আইয়ুব মারা যান। রাতেই সিংগাইর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসাপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
মামলার বাদী আইয়ুব আলী স্ত্রী হাজি বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার স্বামীকে কমিশনার ও তার লোকজন বিনা কারণে মারধর করে। যে কারণে তার মৃত্যু হয়। মারপিটের ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করেন। তবে সে সময় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে আইয়ুব আলীর মৃত্যুর পর সিংগাইর থানা পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলা করার পর থেকে আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
ডালিম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কমিশনার কামাল হেসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি দখল করার বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি যে বাড়িতে থাকেন সে বাড়িটিও এক হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে জোর করে দখল করা।
তিনি আরও জানান, কামাল হোসেন নিরীহ মানুষজনের জমি নানান কূটকৌশলসহ জোর জবরদস্তি করে দখল করার জন্য একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। যে কারণে কামাল হোসেনকে সিংগাইর আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ব্যাপারে কমিশনার কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করলেও বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন আইয়ুব আলী সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন এবং হৃদরোগে আাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান বর্তমানে তিনি উপজেলা যুবলীগের সদস্য।
সিংগাইর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাজি বেগম বাদী হয়ে মারামারির ঘটনায় একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে আইয়ুব আলী আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে গত রবিবার আহত আইয়ুব আলী মারা গেছেন।
ওসি জানান, তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয় মারামারির ঘটনায় আইয়ুব আলী মারা গেছেন তা হলে হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত করা হবে। যে কারণে লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
/এইচকে/








