নরসিংদীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুগন্ধিযুক্ত কলম্বো জাতের লেবুর আবাদ। সারা বছর জুড়ে ফলন ও লাভজনক হওয়ায় জেলাব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই কলম্বো লেবু। এখানকার উৎপাদিত রোগমুক্ত লেবু দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার মাটি লেবু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে বর্তমানে চারটি উপজেলা শিবপুর, বেলাব, মনোহরদী ও রায়পুরায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কলম্বো জাতের লেবুর আবাদ হচ্ছে। এই লেবুর আবাদ করে ভালো ফলন ও দেশ-বিদেশের বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় প্রতি বছরই লেবু চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। কৃষি বিভাগের লেবু বাগান ব্যবস্থাপনার বাইরেও কৃষকরা নিজ নিজ উদ্যোগে লেবু বাগান তৈরিতে ঝুঁকছেন।
রফতানিযোগ্য লেবু ও সবজি উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় জেলার লেবু চাষি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও লেবু রফতানিকারককে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ প্রদান করে কৃষি অধিদফতর। পরে বিভিন্ন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এসে নরসিংদীর কলম্বো জাতের লেবুর বেশ কয়েকটি বাগান পরিদর্শন করেন। পরে রোগমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় নরসিংদীর লেবু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। এরপর থেকে এখানকার উৎপাদিত লেবু রফতানি হচ্ছে বিদেশের বাজারে। দেশীয় পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে লেবু কিনে রফতানি করে থাকেন ইউরোপের দেশগুলোতে। এছাড়া পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও।
এদিকে, লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রতি বছরই নতুন নতুন লেবু বাগান তৈরি করছেনন জেলার কৃষকরা।
রায়পুরা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের লেবু চাষি বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমে ৬ বিঘা জমিতে লেবু চাষ শুরু করি। বিদেশের বাজারে রফতানি, ন্যায্য দাম ও ভালো ফলন পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে লেবুর বাগান বৃদ্ধি করে বর্তমানে ৩৫ বিঘা জমিতে লেবু বাগান তৈরি করেছি। বিঘা প্রতি দেড়লাখ টাকা খরচ করে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় করতে পারছি।’
বেলাবো উপজেলার আমলাব গ্রামের কলেজ শিক্ষক নূর হোসেন বলেন, ‘জেলাজুড়ে লেবু চাষের সফলতা দেখে আমিও লেবু বাগান করেছি। আমার মতো অনেকেই এখন লেবু চাষে ঝুঁকছেন। বছরজুড়ে ফলন ও ভাল দাম পাচ্ছি।’
শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাঁও ভিটিপাড়া গ্রামের লেবু চাষি মাহবুব খন্দকার বলেন, ‘দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও এই লেবুর চাহিদা রয়েছে। লেবু চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বছর আমি ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করতে পারছি।’
নরসিংদীর লেবু রফতানিকারক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল নরসিংদীর লেবু বাগান পরিদর্শন করে রোগমুক্ত লেবু উৎপাদনের কারণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ফলে আমরা বছরজুড়ে সরাসরি বাগান থেকে লেবু কিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে রফতানি করছি।’
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. লতাফত হোসেন বলেন, রোগমুক্ত ও রফতানিযোগ্য কলম্বো লেবুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা লেবু চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সারা বছর ধরে ফলন ও লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকরাও লেবু চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
প্রতি বছর নতুন নতুন বাগান তৈরি ও পুরাতন বাগান ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মো. লতাফত হোসেন।
/এমডিপি/








